ভূরাজনীতিতে পাল্টা অবস্থান
দিল্লি-মস্কো ঘনিষ্ঠতায় অস্বস্তিতে ওয়াশিংটন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শুল্কনীতির তীব্র বিরোধিতা করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়া জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনো স্বাধীন দেশের নিজস্ব বাণিজ্যসঙ্গী বেছে নেয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। আর এ বার্তার পেছনে যে ভারতের প্রতি মস্কোর পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে, তা বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন,
আমরা দেখছি বিভিন্ন দেশকে হুমকি দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ছিন্ন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব বক্তব্য বৈধ বা ন্যায্য নয়। সার্বভৌম দেশের উচিত জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিজস্ব বাণিজ্যসঙ্গী নির্ধারণ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, পেসকভের এ বক্তব্যে যদিও সরাসরি ভারতের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবু সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে এটিকে ভারতের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের রফতানিপণ্যে আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক বসবে।
এ চাপের মধ্যেও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এখন রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার তার রুশ শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। যদিও এ সফর নিয়ে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে ডোভাল-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কনীতি নিয়ে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের প্রস্তুতির কথাও উঠে এসেছে। সীমান্ত বিরোধ সত্ত্বেও বাণিজ্যিক স্বার্থে দিল্লি-বেইজিং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত।
এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের শুল্কনীতি বরং তার মিত্র হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও শুল্কচাপের বিরুদ্ধে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা একটি নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা বয়ে আনছে।
সবার দেশ/কেএম




























