মার্কিন আগ্রাসন প্রতিরোধে সামরিক প্রস্তুতি কিউবার
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে কিউবা জুড়ে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি ও মহড়া চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকি ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তুতিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে হাভানা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর একাধিক সামরিক মহড়া পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট দিয়াস-কানেল। এর মধ্যে একটি ট্যাংক ইউনিটের মহড়াও ছিলো। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর মন্ত্রী জেনারেল আলভারো লোপেস মিয়েরা এবং বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে দিয়াস-কানেল বলেন, সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝিয়ে দেয়া—কিউবার ওপর হামলা চালানোর মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে আগ্রাসনের আগে হিসাব করতে বাধ্য করাই আমাদের প্রতিরক্ষার মূল কৌশল। বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় এ ধরনের সামরিক প্রস্তুতির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে নিয়ে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, কিউবা ‘পতনের জন্য প্রস্তুত’ এবং হাভানাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করতে হবে। অন্যথায় ভেনেজুয়েলার মতো পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের ঘটনা কিউবার উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি এক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত নেতা নিকোলাস মাদুরোকে দেশটি থেকে ধরে নিয়ে যায়। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলো এবং তেল ও আর্থিক সহায়তার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করতো। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কিউবায় ভেনেজুয়েলার সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
এ প্রেক্ষাপটে কিউবার জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে বলে সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট দিয়াস-কানেলের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের লক্ষ্য ছিলো দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের মাত্রা আরও জোরদার করা।
সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে যুদ্ধাবস্থায় রূপান্তরের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বিশ্লেষণ ও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ, ভেনেজুয়েলার ঘটনাপ্রবাহ এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কিউবা এখন আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। হাভানার এ সামরিক প্রস্তুতি শুধু প্রতিরক্ষামূলক বার্তাই নয়, বরং ওয়াশিংটনের প্রতি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক সংকেত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























