আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যার মামলা
হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। এতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ভারতে পলাতক খুনি হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।
রায় প্রকাশের ফলে এখন তাদের আপিল করার সময়সীমা গণনা শুরু হয়েছে; রায় জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে দণ্ড কার্যকরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা যাবে।
গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় রায় ঘোষণা করে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি সে রায়ের আইনি প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নিলো। একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও কামালের দেশে থাকা সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ রয়েছে রায়ে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, অভিযুক্ত দুজন রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে জনগণের ওপর নির্বিচারে হামলা, হত্যা, নির্যাতন চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং সরাসরি বা পরোক্ষভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ নথি, বক্তব্য, ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, ষড়যন্ত্র, উসকানি এবং ঊর্ধ্বতন সিদ্ধান্তদাতার দায়—এ চার ধরনের অপরাধের পাঁচটি আলাদা অভিযোগে বিচার হয়। গণভবন থেকে সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, হেলিকপ্টার ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুলে নিরস্ত্র প্রতিবাদী গণহত্যা এবং আশুলিয়ায় হত্যা শেষে লাশ পোড়ানোর অভিযোগ আদালতে উঠে আসে।
অভিযোগের মধ্যে রংপুর, চানখাঁরপুল ও আশুলিয়া হত্যাকাণ্ডে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। আর গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দেয়ার অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। একই রায়ে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে এখন মামলার পরবর্তী আইনগত পথ উন্মুক্ত হলো। আপিল গৃহীত হলে তা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি হবে; আর আপিল ব্যর্থ হলে দণ্ড কার্যকর করতে সরকারের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সবার দেশ/কেএম




























