ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল
পলাতক হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া শুরু আজ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত জুলাই-আগস্ট গণহত্যা ও গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
তার সঙ্গে একই মামলায় অভিযুক্ত রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, আজকের এ অভিযোগ দাখিলের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে এ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হতে পারে।
এদিকে, শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা গুম ও আয়না ঘরের নিউক্লিয়াস। তার বিচার শুরু হওয়াটা বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
তাজুল ইসলাম জানান, তদন্তে ১০ থেকে ১৫টি গুমের ঘটনার বিস্তারিত প্রমাণ পাওয়া গেছে। জুন মাসের মধ্যেই এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। এছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যে মামলার বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে প্রসিকিউশন অফিসে জমা দেয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছর জুলাই-আগস্টে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া, মারণাস্ত্র ব্যবহার, নারী ও শিশুসহ ১৫০০ জনকে হত্যা এবং ২৫,০০০ জনকে আহত করার মতো ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এসব ঘটনার পরিকল্পনা, নির্দেশ ও উস্কানির পেছনে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।
এছাড়া সহঅভিযুক্ত আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তৎকালীন আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে বলে জানানো হয়।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই এগিয়ে নিচ্ছি। যেন বিচার প্রক্রিয়া অবিচারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক। অতীতের ভুল যেনো পুনরাবৃত্তি না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর গুমের সংস্কৃতিতে একটি বিরাট ধস নেমেছে। আজ ব্যারিস্টার আরমান বা মাইকেল চাকমা আমাদের সামনে উপস্থিত থাকতে পারছে—এটাই প্রমাণ করে, বিচারহীনতার যে দেয়াল ছিলো তা ভেঙে পড়ছে।
বর্তমানে শেখ হাসিনা দেশের বাইরে পলাতক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকলেও এখনও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনও আন্তর্জাতিক তৎপরতা কার্যকর হয়নি। তবে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, তার বিচার অনুপস্থিতিতেও চলতে পারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে।
এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ক্ষমতাসীন অবস্থান থেকে একজন সাবেক শাসকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হতে চলেছে।
সবার দেশ/কেএম




























