বিভ্রান্ত যাত্রী, বিলম্বিত ফ্লাইট
টয়লেটের ফ্লাশ নষ্ট, মাঝ আকাশ থেকে ফিরলো বিমান
ঢাকা থেকে আবুধাবি অভিমুখে রওনা দেয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩২৭ ফ্লাইটটি মাঝ আকাশ থেকে ফিরে এসেছে শুধুমাত্র টয়লেটের ফ্লাশ কাজ না করায়। উড্ডয়নের মাত্র দেড় ঘণ্টা পরই যাত্রীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে রাত ১টা ৩১ মিনিটে বিমানটি শাহজালালে অবতরণ করে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ২৩ মিনিটে ফ্লাইটটি ছাড়লেও আকাশে উঠেই দেখা দেয় বিপত্তি। তিনটি টয়লেটের ফ্লাশ অকেজো হয়ে পড়ে, ফলে প্রায় ২৭০ জন যাত্রীকে মুখোমুখি হতে হয় চরম দুর্ভোগের। যাত্রীরা বিষয়টি জানালে পাইলট নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
বিকল্প উড়োজাহাজ, আবার বিলম্ব
দুর্ঘটনার শিকার বিমানটির ত্রুটি মেরামতের জন্য যাত্রীদের অন্য একটি উড়োজাহাজে তুলে রাত ৩টা ৩৮ মিনিটে আবুধাবির পথে পুনরায় রওনা করা হয়। তবে সে উড়োজাহাজটি ব্যাংককগামী বিজি-৩৮৮ ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত থাকায় সেটি নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি।
ফলে শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে নির্ধারিত ব্যাংকক ফ্লাইটটি বিলম্বে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যায়।
বিমান কর্তৃপক্ষ কী বলছে?
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক আল মাসুদ খান জানান, ফেরত আসা উড়োজাহাজটির ত্রুটি সারানো হয়েছে। যাত্রীদের অন্য ফ্লাইটে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বিলম্বিত ব্যাংকক ফ্লাইটটিও পরবর্তীতে পরিচালনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে
টয়লেট ফ্লাশের মতো একটি মৌলিক যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে এভাবে ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়া বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রস্তুতির মান নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বিশেষজ্ঞরা।
বেসরকারি এক বিমান বিশ্লেষক বলেন, আকাশে উড্ডয়নের আগে এমন মৌলিক জিনিস খতিয়ে দেখা একটি আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা প্রোটোকলের অংশ। এ ঘটনায় প্রমাণ হয়, বিমানের মেইনটেন্যান্স প্রক্রিয়ায় এখনও বড়সড় গাফিলতি আছে।
যাত্রীদের ক্ষোভ
ফ্লাইট বিলম্ব ও দ্বিগুণ যাত্রা ভোগান্তির কারণে যাত্রীরা চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন। একজন যাত্রী বলেন,
একটা জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনের এ অবস্থা হলে বিদেশি পর্যটকদের কাছে দেশের সম্মান কোথায় থাকে?
এ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিলো—একমাত্র আকাশে নয়, বিমানের সমস্যা অনেকটা নিচে থেকেই শুরু হয়।
সবার দেশ/কেএম




























