সিলেটে এনআরবি বিনিয়োগ জোনের ঘোষণা
প্রবাসীদের জন্য করমুক্ত বিনিয়োগ সুবিধা
প্রবাসীদের নিরাপদ বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সিলেটে এনআরবি বিনিয়োগ জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। এ উদ্যোগ সফল করতে সরকার প্রবাসীদের জন্য করমুক্ত বিনিয়োগ সুবিধা দেবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেটের রিকাবীবাজারে কবি নজরুল অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রবাসী সম্মাননা–২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আব্দুন নাসের খান বলেন, প্রবাসীদের অবদানের কারণেই বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গঠনে প্রবাসীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রবাসীদের বিনিয়োগ আরও উৎসাহিত করতে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, সিলেটে একটি এনআরবি স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য জমি বরাদ্দ, কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা একযোগে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, সিলেটকে লন্ডনের মতো আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, সবকিছুই করা হবে। দেশের উন্নয়নের জন্য প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। প্রবাসীরা শুধু অর্থ পাঠিয়েই দায়িত্ব পালন করেননি, বরং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের পতাকাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সিলেট মহানগর পুলিশ প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিনিয়োগে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, সিলেট শহরে প্রবাসী পল্লী গড়ে তোলার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, ওই বিশেষ পল্লীতে প্রবাসীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে বসবাস ও বিনিয়োগ করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবী, পুলিশ সুপার কাজী আখতারুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিশ্বের ১২টি দেশ থেকে আসা প্রবাসীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ নভেম্বর সিলেটের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মাননা দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ছয়টি ক্যাটাগরিতে আবেদন আহ্বান করা হয়। ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হলে ২০ দিনের মধ্যে মোট ৫৮২টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ছয় ক্যাটাগরিতে ১০৩ জন প্রবাসীকে সম্মাননার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে বাছাই কমিটি।
সম্মাননার ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে রয়েছে সফল পেশাজীবী, সফল ব্যবসায়ী, সফল কমিউনিটি নেতা, সফল নারী উদ্যোক্তা, খেলাধুলায় সাফল্য অর্জনকারী এবং বাংলাদেশি পণ্য সংশ্লিষ্ট দেশে আমদানিকারক।
সূত্র: বাসস
সবার দেশ/কেএম




























