Sobar Desh | সবার দেশ এম এম এ শাহজাহান


প্রকাশিত: ০০:৪১, ১৩ জুলাই ২০২৫

সংবাদ ব্ল্যাকআউট কার স্বার্থে?

সংবাদ ব্ল্যাকআউট কার স্বার্থে?
ছবি: সবার দেশ

-ঠিক বন্ধু। আমাদের শিক্ষিত লোকজনের অধিকাংশই কাপুরুষ এবং স্বার্থপর। তারা শুধু  ready-made ফল খেতে চায় কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে রাজি নয়। কিছু ছাত্র-জনতা জীবনের ঝুঁকি নেবে, গালি শুনবে আর বাকিরা শুধু সুদিনে মিষ্টি খাবে এমনটা সব সময় আশা করা ঠিক নয়। দেশটা আবার ফ্যাসিস্টদের কবলে পড়তে যাচ্ছে অথচ আমরা গুটি কয়েক লোক ছাড়া সবাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিয়ে ব্যস্ত; খুবই দুঃখজনক। জানিনা, এ জাতির কপালে কি আছে। সাম্প্রতিক একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা প্রসঙ্গে দুই বন্ধুর আলাপচারিতায় এ কথাগুলি উঠে এসেছে।

সোহাগ নামে একজনকে রাজধানীর মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সামনে বুধবার (৯ জুলাই) দিন পাথরের সাহায্যে আঘাত করে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা মেরে ফেলেছে, কিন্তু ভয়ে অথবা দলীয় লেজুর বৃত্তির কারণে কোন সংবাদ মাধ্যমেই দুইদিন বিগত হলেও সংবাদটি প্রচারিত হয়নি। গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরে সকল জায়গায় এগুলো নিয়ে আওয়াজ হচ্ছে ‌। 

৩৬ এ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরের বাংলাদেশে এরকম ঘটনা ঘটবে এটা বিশ্বাস করতে যেন কষ্ট হচ্ছে আমাদের। তাহলে আমরা যাচ্ছি কোন দিকে ? তাহলে একটি রাজনৈতিক দল যখন লোকসংখ্যার দিক থেকে অনেক বড় হয়, তখন কি অপেক্ষাকৃত ছোট দল বা সংখ্যার অথবা কোন একক নাগরিক তাদেরকে সবসময় ভয় পেয়ে যাবে, এরই নাম কি স্বাধীনতা, আর এরই নাম কি স্বদেশ ভূমিতে নাগরিক অধিকার? কোন নাগরিক কি স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে সে যা ভাবে তা প্রকাশ করতে পারবেনা? 

এ কেমন রাজনীতি, কেমন দল, যে দল মানুষের শান্তির পরিবর্তে মানুষকে যন্ত্রণা দেয়! চান্দাবাজির ধান্দায় রাজনৈতিক দলের কর্মীবৃন্দ আন্দা হয়ে থাকে‌। এ কেমন বর্বরতা? এ তো দেখি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। তাহলে কি নির্বাচনের পরে সংখ্যায় কোন বড় দল যখন আমাদের দেশ শাসন করবে, তখন কি বিগত সরকারের মতই অনুরূপ অবস্থার সৃষ্টি হবে?

আরও পড়ুন <<>> রিপু দমন ও অনুভূতির সংযত প্রকাশ জরুরি

ঘটনা তো ঘটে গেছে, কিন্তু সবচেয়ে আশঙ্কাজনক হচ্ছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের সংবাদকর্মী ও সাংবাদিকবৃন্দ তারা এত বড় একটি ঘটনা খোদ রাজধানীতে ঘটে গেলো, কিন্তু তারা পুরো দুটি দিন নীরব থাকলেন  কিভাবে, এবং কেনই বা তারা নীরব থাকলেন, কার ইশারায়, কিসের জন্য? গতকাল যখন ছাত্র জনতা তাদের দেশব্যাপী পদযাত্রায় বিভিন্ন মিটিংয়ে সরব আলোচনা শুরু করেছে, তখন পুরো জাতি জেগে উঠেছে এর বিরুদ্ধে। পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়, মসজিদে, বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় আলোচিত হচ্ছে এ নৃশংস অমানবিক ঘটনা, যা জনমনে ব্যাপক আতঙ্কে তৈরি করেছে। 

যেকোনও দলকে জনতার মনের ভাব বুঝতে হবে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম কি চায় তা মূল্যায়ন করতে হবে। কেননা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে, আর পূর্ববর্তী বাংলাদেশ এক কথা নয়।এ দেশ প্রেমিক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতা প্রচন্ড ক্ষমতাধর, প্রতাপশালী এক জান্তা সরকারকে সদল বলে বিদায় করেছে। নিশ্চয়ই নতুন কোন দল এসে সরকারে থেকে আবার পূর্ববর্তী দলের মতোই শাসন করুক, অন্যায় করুক, অবিচার, গুম, খুন এবং মানুষের স্বাধিকার হরণ করে তাদেরকে শাসন করুক এটা চাইবে না। 

উপসংহারে এ বলা যায় যে, দেশের আপামর জনসাধারণসহ আমাদের সবাইকে দেশের কল্যাণ কিভাবে হয় তা বুঝতে হবে । সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসাথে থাকতে হবে। নতুন লক্ষ্য নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে । যেখানে থাকবে না কোন সামাজিক অনাচার, অত্যাচার। প্রত্যেক নাগরিক তার সঠিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে সকল জায়গায়, ভোগ করবে সব সময় পূর্ণ নাগরিক অধিকার। আশা করি আমরা সবাই দেশ গড়ায় ঐক্যবদ্ধভাবে একসাথে কাজ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

লেখক: 
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী 
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন