Sobar Desh | সবার দেশ এম এম এ শাহজাহান


প্রকাশিত: ০১:৩৯, ২৪ জুন ২০২৫

রিপু দমন ও অনুভূতির সংযত প্রকাশ জরুরি

রিপু দমন ও অনুভূতির সংযত প্রকাশ জরুরি
ছবি: সবার দেশ

সমাজ বদলে দেয়ার মূল চালিকাশক্তি একজন সচ্চরিত্রবান, বিচক্ষণ নেতা। কে নেতা হবেন, তার মধ্যে কী কী গুণাবলী থাকা উচিত—এ নিয়ে বইপুস্তকে বিস্তর আলোচনা আছে। তবে বাস্তবে কি একজন নেতার মধ্যে সব ধরনের গুণাবলী একত্রে থাকা সম্ভব? নেতা তো শেষ পর্যন্ত মানুষই, যার মধ্যেও সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি থাকতে পারে। মানুষকে তো স্রষ্টা দোষ-গুণের মিশেলে সৃষ্টি করেছেন।

তারপরও সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা থাকে, একজন নেতা হবেন নিষ্কলুষ, সৎ, সচ্চরিত্র এবং উচ্চ মানসিকতার অধিকারী। কিন্তু বাস্তবতা মাঝে মাঝে আমাদের হতাশ করে। বিশ্বনেতাদের ক্ষেত্রেও আমরা এর ব্যতিক্রম দেখিনি। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে মনিকা লিউনস্কির ঘটনাটি কারও মনে হয়তো আজও তাজা। আমাদের দেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এরশাদের রোমাঞ্চকর ব্যক্তিগত কাহিনিও কারও অজানা নয়।

সম্প্রতি দেশব্যাপী আলোচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তুষারের একটি কথোপকথনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেটি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে জনমনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই হতাশ, কারণ এমন কিছু সাধারণ মানুষ আশা করেননি। ঘটনাটি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে জনগণের মনে কষ্ট লাগা স্বাভাবিক। তবে এটাও সত্য, কেউই দোষ-গুণের ঊর্ধ্বে নয়। তুষার একজন তরুণ, তার মনে নানা চিন্তা-ভাবনা আসতেই পারে, ব্যক্তিগত আলাপচারিতাও থাকতে পারে। কিন্তু তা যখন জনসমক্ষে আসে, তখন সেটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমাদের দেশের কিছু মিডিয়া কর্মীর এ বিষয়গুলোতে অতি আগ্রহও পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। হলুদ সাংবাদিকতার ভিড়ে জনগণও বিভ্রান্ত হয়।

আরও পড়ুন: কোনটি বেশি প্রয়োজন- আধিপত্য না শান্তি?

তবে সত্যি কথা বলতে কী, যতটুকু শুনেছি এবং দেখেছি, তুষারকে একজন বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতাসম্পন্ন, যৌক্তিক ব্যাখ্যাদানকারী, চিন্তাশীল, ত্যাগী, দেশপ্রেমিক এবং দৃঢ়চেতা তরুণ নেতা হিসেবেই মনে হয়েছে। নতুন দেশ গড়ার জন্য এমন স্বাধীনচেতা, সাহসী যুবকদের প্রয়োজন আমাদের। তবে ব্যক্তিগত জীবনে আরও বেশি সতর্ক হওয়া তার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিলো। যদি ভিডিওর ঘটনা সত্যি হয়, তবে সে ভুল করেছে। আর যদি মিথ্যা হয়, তবে হলুদ সাংবাদিকতার প্রচারণায় একজন সম্ভাবনাময় নেতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, যা তার ভবিষ্যৎ ও দেশের জন্যও অশনি সংকেত।

আমাদের প্রত্যাশা, যারা প্রগতিশীল, দেশকে ভালোবাসেন, সমাজ বদলে দিতে চান, তারা সর্বক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে চলবেন। নিজের চরিত্রে কোনো কলঙ্কের সুযোগ সৃষ্টি করবেন না। কারণ শত্রুতা থাকা খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু নিজের অসতর্কতায় শত্রুকে সুযোগ করে দেয়া আত্মঘাতী।

একইসঙ্গে আমাদের সাধারণ মানুষ হিসেবেও দায়িত্ব আছে। কোনো নেতার ব্যক্তিগত ছোটখাটো ত্রুটিকে ইস্যু বানিয়ে তার বৃহৎ ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। মানুষ মাত্রেই ভুল হতে পারে। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত হবে ব্যক্তিগত বিষয় এবং বৃহত্তর জনকল্যাণের পার্থক্য বুঝে মন্তব্য করা।

পরিশেষে বলা যায়, দেশের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে, নেতা-জনতা সবারই উচিৎ সংযত, বিচক্ষণ ও সতর্কভাবে নিজেদের অবস্থান ও অনুভূতি প্রকাশ করা। তবেই আমরা একটি উন্নত, সুস্থ এবং সচেতন সমাজের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।

লেখক: 
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী 
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন