Sobar Desh | সবার দেশ এম এম এ শাহজাহান


প্রকাশিত: ১৫:২৭, ৩১ জুলাই ২০২৫

কে উত্তম, দেশপ্রেমিক-ই বা কে? 

কে উত্তম, দেশপ্রেমিক-ই বা কে? 
ছবি: সবার দেশ

মিডিয়া মারফত জানতে পারলাম ডা. শফিকুর রহমান, আমিরে জামায়াত  তিনি তার বাইপাস সার্জারি বাংলাদেশে করাবেন, বিদেশে যাবেন না। কি চমৎকার এবং অসাধারণ ব্যাপার! আমার মতো নিশ্চয়ই অনেকেই তা ভাবছেন? অনেকে আবার এর মধ্যে রাজনীতিও খুঁজে বেড়াবেন নিশ্চয়ই, যাই হোক সে সমস্ত সমালোচকদের ব্যাপারে এ মুহূর্তে আলোচনা করতে চাই না। 

ডা: শফিকুর রহমান কোনও আলেম নন, নন কোন ধর্মগুরু। ১৯৭৪ সালে এসএসসি, ১৯৮৩ সালে CMC থেকে MBBS পাস করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামিতে যোগ দেন। সকল বিভেদ ভুলে এদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তিনি সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। সকল ধর্মের মানুষকে তিনি গত ১৯জুলাই ২০২৪এ একমঞ্চে ভাষন দেওয়াতে পেরেছেন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ধর্মের নেতারা সেখানে তাকে সাধুবাদ দিয়েছেন। এমনটি আমাদের দেশের রাজনীতির আকাশে বিরল ঘটনা।

তার দ্বারা এরকম চমৎকার একটি সিদ্ধান্তের ঘটনায় আমার মনে পড়ে যাচ্ছে ডঃ মাহাথির মোহাম্মদ, মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অনুরূপ একটি সিদ্ধান্তের কথা, যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তিনি সিঙ্গাপুর থেকে ডাক্তারি পাস করেছিলেন অথচ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তারও এরকম একটি সার্জারি হয়। তিনি পাশের দেশ যেখানে চিকিৎসা পদ্ধতি তার নিজের দেশের তুলনায় অনেক উন্নত, কিন্তু সেখানে যাননি বরং তিনি বেছে নিয়েছিলেন তার নিজের দেশের একটি হাসপাতাল । তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো এমন যে, দেশের সাধারণ জনতা যেখানে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারবে না, সেখানে আমার যাওয়া ঠিক হবে না। এছাড়াও তিনি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নতি হোক এটি চেয়েছিলেন। যাতে নিজ দেশের চিকিৎসকরাও ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতির সামগ্রীক কল্যাণ বিবেচনায় সঠিক কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেজন্য তিনি এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন । 

পরবর্তীতে সত্যি সত্যিই মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থাও অনেক অনেক উন্নত হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এরকম দেশের জনসাধারণের জন্য চিন্তা যারা করেন, তারাই তো মহান ব্যক্তিত্ব, কি বলেন আপনারা, তাই না?

কিন্তু ড. মাহাথির মোহাম্মদ আর ডা. শফিকুর রহমান সাহেবতো এক নন। ডঃ মাহাথির মোহাম্মদ হলেন আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক আর ডা. শফিকুর রহমান হলেন আমাদের দেশের একশ্রেণীর মানুষের কাছে রাজাকার। যদিও ব্যাপারটি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়, তারপরেও যেহেতু আমাদের দেশে এরকম কথাই চলমান, এক শ্রেণীর লোক এরকমই বলেই বলে আসছেন এবং বলছেন তাই উল্লেখ করলাম।   

আরও পড়ুন: <<>> চাঁদাবাজিকে ‘না’ বলি, দেশ গঠনে ঐকমত্য গড়ি

আমাদের দেশেরই এরকম আরেকটি উদাহরণ মরহুম ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরি। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাস্থ্যখাতে তার অসামান্য অবদানের কথা এদেশের সবাই কমবেশি জানেন। শেষ বয়সে তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিক, কিডনীরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব যখন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন, তিনি অনঢ় থেকেছেন তারই প্রতিষ্ঠিত ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’তে চিকিৎসা নিতে। বেঁচে থাকার শেষ দিনটি পর্যন্ত তিনি তা-ই করেছেন।

দেশের আপামর জনসাধারণ ও জাতির কল্যাণ বিবেচনা করে একজন কথিত রাজাকার যদি এরকম চিন্তা করতে পারেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরি এভাবে ভাবতে পারেন, তাহলে সেখানে মুক্তিযোদ্ধা বা দেশের বড় বড় অন্য নেতারা কি করেন বা করেছেন তা তো আমাদের সকলেরই জানা।

আমরা তো সারা জীবন ধরে দেখে এসেছি আমাদের দেশের নেতারা নিজের হাঁটুর নিচের পায়ের একটি চুলের কোন অপারেশন করাতে হলেও চলে যান সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, লন্ডন বা অন্য কোন দেশে। এমনকি সরকারি দলের নেতা এবং নেতাদের ইচ্ছায় সরকারি খরচে অনেক সময় তাদের পালিত বিভিন্ন ছোট ছোট দলের নেতারাও বিদেশের চিকিৎসা সেবা পান রাষ্ট্রীয় খরচে। যে অর্থ আবার সাধারণ জনতার করের টাকায় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। 

এখন প্রশ্ন হলো তাহলে কে উত্তম? কথিত রাজাকার, খুনি হাসিনার উপাধি দেয় মাছচোর(!) ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরি, না-কি আমাদের দেশে প্রচলিত রাজনৈতিক নেতারা? প্রশ্নের উত্তর এখন আপনার কাছে আপনি যা ভাববেন তাই!

লেখক: 
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী 
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন