সহজতর ‘জনসেবা প্রত্যাশা’য় নতুন বাংলাদেশ
‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল’, ‘বিএসএমএমইউ’ বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল নামের পরিবর্তিত সাম্প্রতিক রূপ। তারও পূর্বে এর নাম ছিলো ‘আইপিজিএমআর’ অর্থাৎ ‘ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন এন্ড রিসার্চ’ সংক্ষেপে আমরা সবাই তাকে পিজি হাসপাতাল বলেই চিনি এবং জানি । যে যেই নামেই ডাকুক না কেনো, সাধারণ জনতা তাকে পিজি হাসপাতাল নামে ডাকতেই অভ্যস্ত।
এবার আসি আসল প্রসঙ্গে। বহির্বিভাগে রোগীর সেবা প্রসঙ্গ। মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আপনি এখানে যে কোন রোগীর জন্য ডাক্তার দেখাতে পারবেন। ১৮ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশের সরকারি হাসপাতাল বলে এখানে আপনাকে প্রতিদিনই অনেক বড় লম্বা লাইনের ঝামেলা পোহাতে হবে। সম্প্রতি অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারের টিকেট আগে থেকেই নেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে যদিও অনেকেই তা জানেন না। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ছাত্র গণঃঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালটির নাম পরিবর্তন হলেও অনলাইনে আগের নামেই রয়ে গেছে, যা অতি দ্রুত পরিবর্তন করা দরকার।
ধরুন আপনি গিয়ে কমপক্ষে দের/দুইশ লোকের লম্বা লাইন পেলেন টিকিট কাউন্টারে, টিকিট কেটে নির্দিষ্ট ডাক্তারের কক্ষে সাক্ষাৎ করার পূর্বে আপনাকে একই রকম লম্বা লাইনে আবারও দাঁড়াতে হবে ঠিক আগের মতোই। এরকম অসহনীয় ঝামেলা যুক্ত অবস্থা বা বিরম্বনা থেকে বাঁচাতে অনলাইন টিকেট আপনাকে কিছুটা স্বস্তির ব্যবস্থা করে দিতে পারে। আগে থেকে অনলাইনে টিকিট করলে আপনি ডাক্তার সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন হতে পারবেন।
আরও পড়ুন <<>> কে উত্তম, দেশপ্রেমিক-ই বা কে?
ডাক্তারের সাক্ষাৎ মেলার পর তিনি আপনাকে চিকিৎসা পত্র দিবেন এবং প্রয়োজন হলে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিতে পারেন, যেমন এক্সরে এবং অনান্য প্যাথলজিক্যাল টেস্ট ইত্যাদি। এ পরীক্ষাসমূহ করার জন্যে আপনাকে পুনরায় নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় আবারও লাইন দিতে হবে। শুধু তাই নয় সেখান থেকে নিবন্ধন করিয়ে টাকা জমা দেবার জন্য নির্দিষ্ট নাম্বার ও জমা রশিদ নিয়ে ব্যাংকের নির্দিষ্ট বুথে গিয়ে আবারও আপনাকে লাইন দিতে হবে টাকা জমা দেবার জন্য।
ভাবছেন এখানেই শেষ! না তা নয়, আরও আছে। অনেক ঝক্কি ঝামেলা পোহায়ে ব্যাংকের বুথেও টাকা জমা দিলেন, এবার এখান থেকে ব্যাংকে জমাকৃত টাকার রশিদ এবং অন্যান্য সকল কাগজপত্র সাথে নিয়ে আপনাকে যেতে হবে যে স্বাস্থ্য সহকারী আপনার পরীক্ষার জন্য নমুনা রক্ত অথবা অনন্য উপাদান সংগ্রহ অথবা এক্স-রে করবেন সে কক্ষে, সেখানে গিয়ে আবারও লম্বা লাইন।
এইতো গেলো প্রথম পর্ব। তারপর আবার যখন পরীক্ষার রিপোর্ট সমূহ নিয়ে পুনরায় ডাক্তারের সাক্ষাৎকারের জন্য যাবেন, ইতিপূর্বে যা যা করেছেন অনুরূপভাবে আরেক দফা করতে হবে। ঝামেলা পোহানোর বিরক্তির কথা মনে করে রণে ভঙ্গ দিলে কাজ হবে না। তা ছাড়াও মনে রাখতে হবে যে, বেসরকারি হাসপাতাল অথবা প্রাইভেট কোন চিকিৎসা কেন্দ্রে ডাক্তারের সাক্ষাতের জন্যেও আপনাকে অনুরূপ লাইন দিতে হতে পারে। তবে সেখানে লাইনে রোগীর সংখ্যা কম বেশি যা-ই হোক ব্যবস্থাপনা একটু সাজানো গোছানো, তা আপনাকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
এরকম অবস্থা হলে একজন রোগী যার কোন সঙ্গী সাথী নেই তার অবস্থা চিন্তা করতে পারেন কি হতে পারে? প্রত্যেক রোগীর সাথেই অন্তত একজন করে সঙ্গী নিয়ে যেতে হবে তাকে সাহায্য করার জন্য, না হলে অবস্থা বেগতিক।
কিন্তু এ ঝামেলাপূর্ণ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কি নেই? আপনি দেখুন বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে কত সুন্দর কাউন্টার, নাম্বারিং সিস্টেম ইত্যাদি ইত্যাদি। এক জায়গায় টাকা জমা দেয়া হবে সেখান থেকে আরেক জায়গা সেখান থেকে আরেক জায়গা এ ব্যাপারগুলো সব স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যায়, গ্রাহকের প্রত্যেক জায়গায় লাইন দিতে হয় না। যে কোন সেবা প্রত্যাশী গ্রাহক প্রথম একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র থেকে ক্রমিক নাম্বার নিয়ে থাকেন, তারপরে আলোক নির্দেশিত বোর্ডে তার ক্রমিক নম্বরে ডাক পড়বে এবং তিনি পরবর্তী প্রত্যেকটি জায়গায় অনুরূপ একই সিরিয়ালের মাধ্যমে সেবা পাবেন।
আমাদের দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালগুলোতে যদি এরকম ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যেতো, তাহলে নিশ্চয়ই রোগী এবং সেবা প্রত্যাশীদের জন্য সেবা গ্রহণ করা অনেক অনেক সহজ হতো। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে বিষয়টি আসবে এবং জরুরিভাবে দেশের সাধারণ জনগণের সেবার জন্য অনুরূপ ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
প্রিয় পাঠক আপনাদের মধ্যে যদি কেউ এরকম অবস্থানে থাকেন, তাহলে অবশ্যই আপনাদের অধস্তন অথবা ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গকে অনুরোধের মাধ্যমে জনসেবা প্রত্যাশী মানুষের বিড়ম্বনা হ্রাস করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিবেন এবং জনসাধারণের নতুন সুন্দর সহনীয় কাঙ্খিত বাংলাদেশ উপহার দিবেন। সবার জন্য শুভকামনা
লেখক:
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।




























