Sobar Desh | সবার দেশ এম এম এ শাহজাহান


প্রকাশিত: ১১:৩৭, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাধুবেশী শয়তান!

সাধুবেশী শয়তান!
ছবি: সবার দেশ

৩০,০০০ টাকা ঘুষের টাকা সহ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক সরাসরি গ্রেফতার হয়েছে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি ভাইরাল হয়েছে। এনবিআর এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার পদটি ১০ম গ্রেডের পদ, বেতন (১৬-৩৯) হাজার টাকা। 

ধরে নেয়া যায় যিনি ওই পদে চাকুরী করেন তিনি সর্বসাকুল্যে প্রতিমাসে ৪০ হাজার টাকা অর্জন করেন বেতন হিসাবে। শহরাঞ্চলে ছোট একটি পরিবার স্বামী স্ত্রী মাসিক খরচ চালানোর জন্য জীবন শুরুতে এ টাকা দিয়ে মোটামুটি চলে যায় বাড়তি চাহিদা না থাকলে, সৎভাবে জীবন যাপন করা যায়। কিন্তু সামাজিক চাপে অনেকেই তা সহ্য করতে না পেরে অসোদুপায় অবলম্বন করে থাকেন। যার চিত্র আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। 

এম এ রহিম সাহেব স্বামী-স্ত্রী, ঘরে সহকারী হিসেবে একজন গৃহকর্মী আছে, তিনজন লোক বিশিষ্ট একটি পরিবার আমার পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন। ছিমছাম প্রকৃতির ভদ্রলোক মাঝে মাঝে সিঁড়িতে উঠতে নামতে দেখা হয়, এছাড়া তেমন কিছুই জানিনা। ভাবতাম তিনি হয়তো কোনো বেসরকারি ফার্মের বড়কর্তা, মাসে এক দেড় লাখ টাকা বেতন পান। 

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আজ বুঝতে পারলাম তিনিই সে ব্যক্তি যিনি ঘুষের টাকা সহ ধরা খেয়েছেন। এ যে ফ্ল্যাটটিতে থাকেন তার মূল বাড়ি ভাড়া ২৫ হাজার টাকা। সিকিউরিটি, বিদ্যুৎ, পানি মিলিয়ে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকার কম হলে হয় না, অর্থাৎ শুধু রাজধানীতে থাকার জন্য ৩০ হাজার টাকা খরচ লাগে প্রতি মাসে। তারপরে পুরো মাসের খাবার, চিকিৎসা, দাওয়াত এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের ব্যয় ইত্যাদি সব মিলিয়ে কত খরচ হতে পারে তা প্রিয় পাঠক আপনারাই আন্দাজ করে নিবেন। 

আরও পড়ুন <<>> সহজতর ‘জনসেবা প্রত্যাশা’য় নতুন বাংলাদেশ

এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে তিনি ওই নির্দিষ্ট বেতনে চলেন কিভাবে? ওই চাকরিতে পেতে হলে তার কমপক্ষে টার্মিনাল ডিগ্রি হিসেবে আমাদের দেশে গ্রাজুয়েশন বা স্নাতক পাস হওয়া সার্টিফিকেট থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্নাতকোত্তর সার্টিফিকেটধারী ব্যক্তিই হয়ে থাকে। চাকুরী জীবনে তিনি সাধূতার ধার ধারেননি, সহজ পথ বেছে নিয়েছেন‌। বাড়তি কামাই হিসেবে তিনি নিজেকে ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত করেছেন। কেননা সমাজ টাকাওয়ালাদের সম্মান দেয়, সাধুদের নিগৃহীত হতে হয় পদে পদে। তাই অযথা সাধু সেজে কি লাভ, তার চেয়ে ভালো সমাজে সদর্পে চলাচলের জন্য যে কোন উপায়ই হোক না কেনো টাকা কামাই করাযই ভালো । আর পরকাল, সে তো পড়ার সময় পড়েছি বইয়ে, নীতিবাক্য মানলে তো গোল্লায় যাবো, আপাতত পরকাল বাদ দিয়ে ইহ-কালের স্বাদ গ্রহণ করে নিই, তারপর মরলে দেখা যাবে! 

কিন্তু এখন কি হবে এখন তো আম ও ছালা দুটোই গেলো। মান-সম্মান, ইজ্জত সবই লুটিয়ে পড়লো। পাশের ফ্ল্যাটের আমি তো বটেই, অন্য বাসিন্দা যারা আছেন তাদের সামনেও তিনি মুখ দেখাবেন কি করে, লজ্জায় তার মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে। ধরা পরার পর মাথায় আরো অনেক অনেক চিন্তা এসে জমা হচ্ছে! 

তাহলে তো আমার সাধুতার পথই ভালো ছিলো, কিন্তু এখন কি উপায়? এখন তো সবই শেষ, মনের ভেতর হরেক রকমের চিন্তা করতে করতে এরই মধ্যে থানা পুলিশ হয়ে ১৪ শিকের ভেতরে সরাসরি কারাগারে। বন্দী জীবন শুরু, লম্বালম্বি দুটি মোটা শিকের মধ্যে হাত দিয়ে, মাঝখানের একটি শিকে কপাল লাগিয়ে একান্ত নিজের মতো করে আপন মনে ভাবছিলেন রহিম সাহেব। 

প্রিয় পাঠক! বলে নেয়া ভালো, চরিত্রটি কাল্পনিক, গল্পের প্রয়োজনে সন্নিবেশিত করা হয়েছে, এতে কারও জীবনের সাথে মিলে গেলে আমার কোন দায় থাকবে না।

উপসংহার: সামাজিক চাপে আভিজাত্য জাহির করার জন্য অথবা ধনী হওয়ার চিন্তায় নিজেকে অসাধূতার পথে ঠেলে দিলে এরকম ভাবেই জীবন যুদ্ধ পরাজিত হতে হয়।

লেখক: 
এম এম এ শাহজাহান, প্রকৌশলী 
মার্কেটিং অ্যাডভাইজার, ফাইন গ্রুপ।

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন