Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৫৫, ১৮ জুলাই ২০২৫

আপডেট: ২১:০৯, ১৮ জুলাই ২০২৫

দিল্লি থেকে হাসিনার নির্দেশে এনসিপির সমাবেশে রক্তাক্ত সহিংসতা

দিল্লি থেকে হাসিনার নির্দেশে এনসিপির সমাবেশে রক্তাক্ত সহিংসতা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) 'দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা' কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে গত বুধবার অনুষ্ঠিতব্য শান্তিপূর্ণ সমাবেশটি ভয়াবহ হামলার শিকার হয়। পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এ হামলার পেছনে ছিলো ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরাসরি নির্দেশনা—এমনটাই দাবি এনসিপি নেতাদের।

সূত্র জানায়, একাধিক টেলিফোন সংলাপ এবং অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে রুখে দেয়ার নির্দেশ দেন তার দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের। তার নির্দেশে মূল দায়িত্ব পান নিষিদ্ধ ঘোষিত গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা—সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়াল এবং সভাপতি নিউটন মোল্লা।

এক অডিও বার্তায় হাসিনাকে পিয়ালকে বলতে শোনা যায়, ওরা টুঙ্গিপাড়ায় আমার বাবার কবর ভাঙবে বলেছে। আগে ৩২ নম্বরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, এবার টুঙ্গিপাড়ায় আসছে। বসে আছো কেনো? গোপালগঞ্জের মাটি থেকে যেন কেউ ফিরে যেতে না পারে।

আরেকটি অডিও বার্তায় নিউটন মোল্লাকে শেখ হাসিনা বলেন, পিরোজপুর, খুলনা, ফরিদপুরসহ আশপাশ থেকে এনসিপি কর্মীরা গোপালগঞ্জে আসছে। যেভাবেই হোক প্রতিহত করো। কেউ যেনো জীবিত না ফেরে।

এসব নির্দেশনার পরের দিন সকাল থেকেই গোপালগঞ্জে শুরু হয় সহিংসতা। এনসিপির সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই মঞ্চ ভাঙচুর, গাড়িবহরে হামলা এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার নেতৃত্ব দেন আতাউর রহমান পিয়াল ও নিউটন মোল্লা।

একইদিন শহরের বিভিন্ন স্থানে চলে গুলিবর্ষণ, বোমা হামলা এবং সরকারি অফিসে ভাঙচুর। গোপালগঞ্জ কারাগারে হামলার চেষ্টা করে নিউটন মোল্লা ও তার অনুসারীরা, যেখানে আটক ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহাবুদ্দিন আজম। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানে সে হামলা প্রতিহত হয়।

ইউএনও’র গাড়িতে হামলার নেতৃত্ব দেন যুবলীগ নেতা মাসুদ রানা। গোপালগঞ্জ জেলা ও আশপাশের জেলা-উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই সহিংসতায় সরাসরি অংশ নেন।

পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনার সঙ্গে এ সময় সমন্বয় করেন কলকাতা, লন্ডন ও ঢাকায় অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। কলকাতা থেকে মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা মনিটর করেন তার ফুপাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম। লন্ডনে বসে গোপন বৈঠক ও ভার্চুয়াল নির্দেশনা দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান ও ইকবাল হোসেন অপু।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন কলকাতা থেকে ফেসবুক লাইভে এসে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার সরাসরি নির্দেশ দেন।

নারী নেত্রীদের মধ্যে এ কাজে ভূমিকা রাখেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ইয়াসমিন আলম, যাকে পরবর্তীতে পুলিশ আটক করে।

‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ নামে ঘোষিত এ কর্মসূচি ব্যাহত হলেও এনসিপি নেতাকর্মীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গোপালগঞ্জে হামলার পর তাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিলো শরীয়তপুরের জাজিরা।

এ হামলার পেছনে কেন্দ্রীয় থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কীভাবে জড়িত ছিলেন, তার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে একাধিক অডিও, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে।

এনসিপি বলছে, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি দলীয় সন্ত্রাসের উদাহরণ, যার মূল কারিগর স্বয়ং শেখ হাসিনা।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন