ফ্যাক্টচেক করলো রিউমর স্ক্যানার
পুরোনো ভিডিওকে গোপালগঞ্জের বলে চালালেন হাসিনাপুত্র জয়
গোপালগঞ্জে পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিকে গোপালগঞ্জে পুলিশ কর্তৃক এক ব্যক্তিকে হত্যার পর গাড়িতে তুলছে—এমন দাবি করে শেয়ার করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনার পুত্র বাংলাদেশ ব্যাংক লুটেরা সজীব ওয়াজেদ জয়।
তবে রিউমর স্ক্যানার ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে জানিয়েছে, এটি গোপালগঞ্জের নয়। বরং এটি এক মাস আগের একটি ভিন্ন ঘটনা, যেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাদুঘর গরুর বাজারে ছিনতাইকারী সন্দেহে একজনকে গণপিটুনির পর পুলিশ এসে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ভিডিওটি প্রথম ৪ জুন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাটল ক্লাব’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়।
বুধবার (১৬ জুলাই) এ ভিডিও নিয়ে রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্টচেক প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়—পুরোনো ঘটনাকে গোপালগঞ্জের সহিংসতার সাথে যুক্ত করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে, যা জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল।
ভিডিওটিকে ‘পুলিশ কর্তৃক হত্যা’ আখ্যা দিয়ে জয় তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেন—এটি গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচির সময়কার ঘটনা। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে এটি অসত্য প্রমাণিত হয়।
এ বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের ঘটনায় নেটিজেনদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে জয়ের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন—গণঅভ্যুত্থানে পরাজিতদের মিথ্যা ছড়ানোই একমাত্র কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে অন্তত ৪ জন নিহত ও বহু আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করে আসছে, যা ইতিমধ্যে দেশের একাধিক জেলায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে গোপালগঞ্জে সহিংস হামলা এ কর্মসূচির সবচেয়ে ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























