প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হওয়ার পক্ষে বিএনপি
একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান হতে পারবেন—এমন ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কারণে কাউকে দলীয় প্রধান হতে না দেয়া গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার শামিল।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে ১৭তম দিনের সংলাপে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক গণতান্ত্রিক দেশে একই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী ও দলপ্রধান হয়ে থাকেন। এটি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ঠিক করবে। এমনকি একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কয়েক মাস পর পদ ছাড়লেও দলীয় প্রধান হিসেবে থাকতেই পারেন। তাই বাধ্যবাধকতা না থাকাই ভালো।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বাছাই প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন জানান, পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটির প্রস্তাব এসেছে। এতে সরকার ও বিরোধী দল থেকে দুজন করে এবং সংসদের তৃতীয় বৃহত্তর দল থেকে একজন থাকবেন। এ কমিটি সংসদীয় দলের প্রস্তাব থেকে নাম সংগ্রহ করে উপদেষ্টা বাছাই করবে।
তবে কমিটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে রয়েছে—সরকার ও বিরোধী দল ৫ জন করে এবং তৃতীয় দল ২ জন করে মোট ১২ জনের একটি তালিকা জমা দেবে। এখান থেকে চূড়ান্ত বাছাই হবে। যদি এখানেও একমত না হয়, তাহলে র্যাঙ্ক চয়েজ ভোটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের প্রস্তাব উঠেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সব পক্ষ একমত হলে ১৩তম সংশোধনীর কাঠামো মেনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন সম্ভব, তবে রাষ্ট্রপতির ওপর প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব চাপানোর বিধান বাতিল করার পক্ষে মত দিয়েছে দলটি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কার্যকর করতে গেলে সংবিধানের ১২৩(৩) ও ৭২(১) ধারা সংশোধনের প্রয়োজন হবে বলেও বিএনপি জানিয়েছে। এক্ষেত্রে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনের আয়োজন ও অধিবেশন আহ্বান সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
আলোচনার একপর্যায়ে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব আসে, তবে এ বিষয়ে বিএনপি আজ মত দেয়নি।
সংলাপে সর্বসম্মতি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব কিনা জানতে চাইলে সালাহ উদ্দিন বলেন, ১৯৯৬ সালের মতো ঐকমত্যের ভিত্তিতে আবারও একটি কার্যকর সমঝোতা সম্ভব। বিভক্তি নয়, রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমেই আমরা এগোতে চাই।
সবার দেশ/কেএম




























