লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একান্ত বৈঠক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি গত জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।
বৈঠকটি ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিলো। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসও গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সম্ভাব্য নির্বাচন ও বিএনপির রোডম্যাপ
সূত্র জানায়, এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিলো আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সরকার গঠন নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা বোঝা। নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে তারা কেমন নীতিমালা অনুসরণ করবে—এ বিষয়ে বিশদ জানতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয় তাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগীয় সংস্কার, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার নিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও সুশাসনের নীতিমালা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিএনপিকে একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অংশীদার হিসেবে পর্যালোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিএনপির রাজনৈতিক ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, এ বৈঠক সেই চিত্র কিছুটা পাল্টাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বার্তা
বৈঠকটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং পশ্চিমা বিশ্বের নজর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের ওপর নিবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এ প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের আলোচনাকে অনেকেই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বৈঠক নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও, অন্যদিকে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেও সংলাপে আগ্রহ দেখাচ্ছে —যা ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে কৌশলগত তৎপরতারই অংশ।
সবার দেশ/কেএম




























