দল থেকে ট্রাকের প্রার্থী দিয়ে শীর্ষনেতারা লড়বেন ধানের শীষে
গণঅধিকার পরিষদের নির্বাচনী ডিগবাজি, নুর বলছেন কৌশল
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর নিজে দলীয় প্রতীক ট্রাক নিয়ে এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবেন। বিষয়টিকে ‘নির্বাচনী ডিগবাজি’ নয়, বরং সুপরিকল্পিত কৌশল হিসেবেই তুলে ধরেছেন নুরুল হক নুর।
শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে নুরুল হক নুর জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে এবং তিনি নিজে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করবেন। তার ভাষায়, এটি কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জোটগত সমন্বয় বিবেচনায় নেয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শুধু একক দলীয় প্রতীকে সীমাবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে। সে কারণেই কোথাও জোটের শক্তি, কোথাও দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে ভিন্ন প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোটের মাঠে সমন্বয় বাড়বে এবং বিরোধী ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে বলে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। সেখানে ধানের শীষ প্রতীকে রাশেদ খানের অংশগ্রহণ স্থানীয় বিএনপি ও বিরোধী জোটের ভোট একত্রিত করতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নিজস্ব সংগঠন ও নুরুল হক নুরের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতাকে সামনে রেখে ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হলেও নুরুল হক নুর তা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রতীক ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য একটাই—গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে শক্তিশালী জনমত গড়ে তোলা এবং সংসদে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
গণঅধিকার পরিষদের নেতারা মনে করছেন, ভিন্ন প্রতীকে হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিরোধী রাজনীতির পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে জোটগত রাজনীতির জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
দলটির এ কৌশল শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে ভোটের মাঠে জনসমর্থন, জোটের বাস্তব সমন্বয় এবং নির্বাচনী পরিবেশের ওপর। তবে ট্রাক ও ধানের শীষ—দুটি প্রতীককে সামনে রেখে গণঅধিকার পরিষদের এ নির্বাচনী কৌশল ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সবার দেশ/কেএম




























