ময়মনসিংহের নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান
বিএনপি খারাপ হলে জামায়াত মন্ত্রীরা কেনো পদত্যাগ করেনি
ময়মনসিংহে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর প্রতি তীব্র প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি যদি এতোটাই খারাপ দল হয়ে থাকে, তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সরকারে থাকা জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী কেনো তখন পদত্যাগ করে সরকার ছেড়ে যাননি।
মঙ্গলবার ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে ময়মনসিংহ বিভাগের আওতাধীন ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর জেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, এ মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল বিএনপির বিরুদ্ধে যে ভাষায় কথা বলছে, সেটি মূলত সে স্বৈরাচারের মুখের ভাষা, যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তারা বলছে, বিএনপি সরকার নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিলো। কিন্তু আমি তাদের প্রশ্ন করতে চাই—২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদের দলেরও তো দুইজন মন্ত্রী বিএনপি সরকারের অংশ ছিলো। ছিলো না? ছিলো।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি যদি সত্যিই দুর্নীতিবাজ হতো, তাহলে ওই দুইজন মন্ত্রী কেন তখনই পদত্যাগ করে সরকার ছেড়ে আসেননি। তারা পদত্যাগ করেননি, কারণ তারা খুব ভালো করেই জানতেন যে বেগম খালেদা জিয়া কঠোর হাতে দুর্নীতি দমন করতেন এবং দুর্নীতিকে কখনও প্রশ্রয় দিতেন না।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ওই সময়ের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে দুর্নীতির তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিলো। অথচ আজ যারা বিএনপিকে দোষারোপ করছে, তাদেরই দুইজন প্রতিনিধি পুরো মেয়াদজুড়ে বিএনপি সরকারের অংশ ছিলো—যা প্রমাণ করে তারা জনগণের সঙ্গে কত বড় মিথ্যাচার করছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এবার শুধু ভোট দিলেই হবে না। ভোট কেন্দ্র পাহারা দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যেন আর কোনও ভোট লুটপাট না হয়। এর আগেও আমাদের ভোট ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাহলেই আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।
তিনি বলেন, মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। এ অঞ্চলে নদীভাঙন, কর্মসংস্থানসহ বহু সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেছে। গত ১৫ বছর ভোটের অধিকার না থাকায় এসব সমস্যার সমাধান হয়নি।
মাদক সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, নেত্রকোনাসহ এ অঞ্চলের কিছু এলাকায় মাদক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ সমস্যা সমাধানে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য জেলায় জেলায় ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়াতে হবে এবং আইসিটি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে যুবকরা দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ পায়।
ময়মনসিংহ অঞ্চলকে কৃষিপ্রধান এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে খাল পুনঃখননের বড় প্রয়োজন রয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়নে জনগণকে কোদাল হাতে নিয়ে আমার সঙ্গে থাকতে হবে।
এছাড়া দেশের সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ধারাবাহিকভাবে সম্মানিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের জীবনমান উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।
সমাবেশে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীদের মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচিত হয়ে এলে যেন জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এলাকার উন্নয়নের হিসাব আদায় করা হয়।
তারেক রহমানের পঞ্চম দফা নির্বাচনি প্রচারণার এ সমাবেশটি কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব রুকনুজ্জামান সরকার ও উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেনের সঞ্চালনায় এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা।
ময়মনসিংহের জনসভা শেষে তারেক রহমান গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠ ও উত্তরার আজমপুর ঈদগাঁও মাঠে পৃথক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। সব কর্মসূচি শেষে তিনি ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে ফিরবেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি সমাবেশ শুরু করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নরসিংদী, রূপগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা ও দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পথসভায় অংশ নেন তিনি। বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, ময়মনসিংহ সফরের পর পর্যায়ক্রমে রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া ও বরিশাল বিভাগে নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেবেন তারেক রহমান।
সবার দেশ/কেএম




























