নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব
ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ
আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভারতে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার খবরে বৈশ্বিক এ আসর নির্বিঘ্নে আয়োজন করা যাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিপা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বড় ক্রীড়া আয়োজনের ওপর।
এরই মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকির খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিপা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার কয়েকটি দেশ ভারতফেরত যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং চালু করেছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুনরায় কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা কার্যকরের সম্ভাবনাও নাকচ করা যাচ্ছে না। এমন হলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা ক্রিকেটার, কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থাও নিপা ভাইরাসের বিস্তার নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার, খাইবার নিউজসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নিপা ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হিসেবে পরিচিত। সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস পান বা আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে এ ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা কার্যকর টিকা নেই।
সিজিটিএনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে চিকিৎসাকর্মীসহ কয়েকজন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। জনবহুল দেশ হওয়ায় কার্যকর স্ক্রিনিং ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা সংক্রমণ বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, নিপা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। যারা সুস্থ হন, তাদের অনেকের মধ্যেও পরবর্তীতে স্নায়ুবিক জটিলতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ডব্লিউএইচও নিপা ভাইরাসকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্ভাব্য মহামারি সৃষ্টিকারী ভাইরাসের তালিকায় রেখেছে।
এ অবস্থায় ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আইসিসি ও আয়োজক কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন ক্রিকেট বিশ্বের নজর।
সবার দেশ/কেএম




























