শিবিরের জয়ে দিল্লিতে দুশ্চিন্তা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের বিপুল জয় ভারতের নীতিনির্ধারক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নয়াদিল্লি আশঙ্কা করছে, এ জয় কেবল ক্যাম্পাস রাজনীতিতেই নয়, মূলধারার রাজনীতিতেও জামায়াতকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে—যা ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে।
শ্রিংলার সতর্কবার্তা
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে আয়োজিত ‘আমরা কি বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত?’ শীর্ষক এক আলোচনায় সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও, যদি ক্ষমতায় এমন শক্তি আসে যারা ভারতের স্বার্থবিরোধী কাজ করে, তবে সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে শ্রিংলা বলেন,
চিতা কখনও তার লক্ষ্য হারায় না।
অর্থাৎ অতীতে যারা ভারতের জন্য হুমকির কারণ ছিলো, ভবিষ্যতেও তাদের কাছ থেকে ভিন্ন আচরণের আশা করা ভুল হবে।
কংগ্রেসের শঙ্কা
ভারতের কংগ্রেস নেতা শশী থারুর এক্সে (টুইটার) দেয়া পোস্টে ডাকসু নির্বাচনের এ ফলকে ‘আসন্ন দিনগুলোর জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত’ আখ্যা দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন—২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে কি জামায়াত সরকার গঠনের পর্যায়ে পৌঁছাবে?
থারুর লিখেছেন, বাংলাদেশে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি জনগণের অসন্তোষ বাড়ছে। আর সে শূন্যস্থান পূরণে জামায়াত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, জামায়াতে যোগ দেয়া অনেকেই কট্টর ধর্মান্ধতার কারণে নয়, বরং অন্যান্য দলের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় ক্লান্ত হয়ে বিকল্প খুঁজছেন।
বিজয়ের তাৎপর্য
ডাকসুতে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র জোটের ব্যানারে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)সহ মোট ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে ৯টিতেই জয় পেয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ সাফল্য জাতীয় রাজনীতিতে একটি ‘ট্রিগার পয়েন্ট’ হয়ে উঠতে পারে।
দিল্লির কূটনৈতিক টেনশন
ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার শ্রিংলার বক্তব্য দিল্লির কূটনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির এ পালাবদল ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটকেই বদলে দিতে পারে।
সবার দেশে/কেএম




























