ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে উত্তপ্ত আসানসোল
গ্রেফতারের নির্দেশেও থামছে না পশ্চিমবঙ্গের ভোট-পরবর্তী সহিংসতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই চলমান সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফল ঘোষণার দুই দিন পরেও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তবে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনার পরও থামছে না সহিংসতা।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতজুড়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল শিল্পাঞ্চলের একাধিক এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসানসোল কোর্ট মোড়ে অবস্থিত তৃণমূলের একটি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি রূপনারায়ণপুর টোল প্লাজা, কুমারপুর, কুলটি, রানীগঞ্জ, জামুড়িয়া, বারাবনি ও বার্ণপুর এলাকায় দলটির একাধিক কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়।
কিছু স্থানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। যদিও এ ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও দায় স্বীকার করা হয়নি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন থেকেই নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কেরা দাবি করে আসছেন, তাদের দলের কোনও কর্মী এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কোথাও হামলা, ভাঙচুর বা সহিংসতার ঘটনা চোখে পড়লেই জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজি), কোলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি নির্বাচনের পর সহিংসতার সংস্কৃতি নতুন নয়। তবে এবারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পাল্টাপাল্টি হামলা, দখল এবং ভয়ভীতির অভিযোগ সামনে আসছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কও বাড়ছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
সবার দেশ/কেএম




























