মানবতাবিরোধী অপরাধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
পলাতক হাসিনার বিচার শুরু হলো
ট্রাইব্যুনাল থেকে সরাসরি সম্প্রচার বিচার কার্যক্রম। প্রসিকিউটর বলেন, এটি কোনও প্রতিশোধ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য আইনের শাসনের প্রতিজ্ঞা।
আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ।
এ অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল-১ গ্রহণ করেছে এবং হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং মামুনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছে। ১৬ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রসিকিউশনের দল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেশ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে আন্দোলন দমনের মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হন, ২৫ হাজারের বেশি আহত হন এবং বহু নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হন।
এইরিপোর্ট তৈরি হয়েছে ৬ মাস ২৮ দিনের তদন্ত শেষে। এতে ব্যবহার হয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ, অডিও রেকর্ড, ডিজিটাল প্রমাণ ও আসামিদের স্বীকারোক্তি। মোট পৃষ্ঠা ৮,৭৪৭ এবং সাক্ষী সংখ্যা ৮১ জন।
৫টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ:
- ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর হামলার সূত্রপাত।
- আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ।
- রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা।
- চাঁনখারপুলে ছয় ছাত্রকে গুলি করে হত্যা।
- আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা ও পুড়িয়ে ফেলা।
প্রসিকিউটর বলেন, এটি কোনও প্রতিশোধ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য আইনের শাসনের প্রতিজ্ঞা। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা চলমান রয়েছে—একটি গুম-খুনের অভিযোগে এবং অপরটি ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
এদিকে ট্রাইব্যুনালের পাশে ককটেল বিস্ফোরণের একটি ঘটনা ঘটেছে, তবে পুলিশ জানিয়েছে এটি পটকা জাতীয় কিছু ছিলো।
সবার দেশ/কেএম




























