নারী ও কন্যাশিশুর স্বপ্ন পূরণে ৬ অঙ্গীকার তারেক রহমানের
বাংলাদেশের নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা ও স্বপ্নপূরণের পথে রাষ্ট্রকে অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে শনিবার (১১ অক্টোবর) দেয়া এক বাণীতে তিনি নারী উন্নয়ন ও কন্যাশিশুর অগ্রগতির জন্য ছয়টি অঙ্গীকার ঘোষণা করেন।
তারেক রহমান বলেন,
প্রতিটি মেয়ে যেন নিজের স্বপ্ন দেখার, শেখার, নেতৃত্ব দেয়ার এবং মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার পায়—এ অধিকার রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। একজন কন্যাসন্তানের পিতা হিসেবে আমি জানি, মেয়েদের ক্ষমতায়ন শুধু নীতি নয়, এটা আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।
তারেক রহমানের ৬ অঙ্গীকার
- নারী গৃহপ্রধানদের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা— যাতে পরিবারের আসল স্তম্ভ নারীর হাতে পৌঁছে যায় সহায়তা ও প্রণোদনা।
- নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা— এসএমই ঋণ, ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ ও আর্থিক প্রণোদনা, যাতে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।
- মেয়েদের জন্য শক্তিশালী শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন— গ্রাম বা শহর, প্রতিটি মেয়ের জন্য একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষার সমান সুযোগ।
- নীতিনির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি— রাজনীতি, প্রশাসন ও নীতিপ্রণয়নে নারীদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।
- নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন— প্রতিটি মেয়ে যেন ভয়মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারে, কথা বলতে পারে এবং ইন্টারনেটসহ প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বাধীন থাকে।
- পরিবার ও সামাজিক কল্যাণে নারীকেন্দ্রিক নীতি— স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ উন্নয়নে নারী ও কন্যাশিশুর অগ্রাধিকার।
তারেক রহমান বলেন,
প্রতিটি মেয়ে যে স্বপ্ন দেখে, তার সে স্বপ্ন পূরণের পথে রাষ্ট্রকে বিএনপি তার সঙ্গী করবে—প্রতিবন্ধক নয়।
নারী উন্নয়নে বিএনপির ঐতিহ্য তুলে ধরেন তারেক
তিনি বলেন,
বিএনপি সরকারের রয়েছে জীবন বদলে দেয়ার ঐতিহ্য। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ লাখো নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তাদের দিয়েছে মর্যাদা ও স্বাধীনতা। তার নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’, যার লক্ষ্য ছিলো নারীদের জীবনের মানোন্নয়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া।
তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মেয়েদের শিক্ষা একটি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো, কোনও ‘বিশেষ সুবিধা’ হিসেবে নয়। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য শিক্ষা বিনামূল্যে করা, ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ ও ‘শিক্ষার জন্য নগদ সহায়তা’ কর্মসূচি চালুর ফলে লক্ষ লক্ষ মেয়ে স্কুলে থাকার সুযোগ পায়, যা বদলে দেয় তাদের জীবন ও সমাজের কাঠামো।
তিনি বলেন, ফিমেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা অর্জন করে এবং শিশুবিবাহের হার কমে আসে। এ প্রকল্পটি বিশ্বব্যাপী কন্যাশিক্ষার সফল মডেল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
তারেক রহমানের বাণীতে স্পষ্ট বার্তা—বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নারী ও মেয়েদের হাতে। তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সম্ভাবনাই হবে বিএনপি-ঘোষিত আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি।
সবার দেশ/কেএম




























