বেঁচে আছেন, তবু ‘মৃত’ বানানো হচ্ছে
সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের নতুন ফাঁদ, বাঁচার উপায়!
সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এক ভয়ংকর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—দেশের পরিচিত রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের ‘মৃত’ দেখিয়ে গুজব ছড়িয়ে দেয়া। বাস্তবে তারা জীবিত থাকলেও, ভুয়া ফটোকার্ড, এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও সম্পাদিত গ্রাফিক্স ব্যবহার করে এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
এ ধরনের গুজবের সর্বশেষ শিকার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

কিন্তু এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়—তিনি মারা গেছেন। যাচাই করে দেখা গেছে, এটি কোনও গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবর নয়। বরং একটি আসল ফটোকার্ড সম্পাদনা করে ভুয়া শিরোনাম বসানো হয়েছে।
ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা রিউমর স্ক্যানার জানায়, মির্জা আব্বাস জীবিত আছেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তার মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা।

শুধু তিনি নন, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা-কেও একইভাবে ‘মৃত’ ঘোষণা করে গুজব ছড়ানো হয়। একটি ভুয়া ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, সংবাদ সম্মেলনের সময় হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে তাকে সংসদের অধিবেশনেও সুস্থ অবস্থায় দেখা গেছে।

একই ধরনের গুজব ছড়ানো হয় আলোচিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী-কে ঘিরেও। দাবি করা হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা গেছেন। এমনকি একটি ‘হাসপাতালের ছবি’ও ছড়িয়ে দেয়া হয়।

তবে তদন্তে দেখা যায়, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি এবং মৃত্যুর দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন-এর মায়ের মৃত্যুর খবর নিয়েও একই ধরনের গুজব ছড়ানো হয়। পরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়, এ তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

এছাড়া কণ্ঠশিল্পী হায়দার হোসেন-কেও ‘মৃত’ দেখিয়ে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো হয়। পরে তিনি নিজেই জানান, তিনি সুস্থ আছেন এবং এসব গুজবের কোনো ভিত্তি নেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ধরন অনেক বেশি কৌশলী হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল বা সংবাদমাধ্যমের ডিজাইন হুবহু নকল করে ফটোকার্ড তৈরি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সহজেই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এআই প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ভুয়া ছবি তৈরি করে বিভ্রান্তি আরও বাড়ানো হচ্ছে।
ফ্যাক্ট-চেকারদের পরামর্শ, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও চাঞ্চল্যকর খবর দেখলেই তাৎক্ষণিক বিশ্বাস বা শেয়ার না করে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা উচিত। সচেতনতার অভাবই এসব গুজবকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।
সবার দেশ/কেএম




























