‘প্ল্যান এবিসিডি’ প্রস্তুত
বাংলাদেশের সমর্থনে বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত পাকিস্তানের
ভারতে গিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। আইসিসির সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর এবার প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
গত বুধবার আইসিসির বোর্ড সভা শেষে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। এর পরদিন বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ এবং এ অবস্থান থেকে সরকার বা বিসিবি সরে আসবে না।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানায়।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সাঞ্জোগ গুপ্তা বোর্ড সদস্যদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দাবি ও অবস্থান আইসিসির নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আইসিসি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানানোয়, বাংলাদেশের পরিবর্তে অন্য একটি দেশকে এ মেগা ইভেন্টে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া সংস্থাটির সামনে আর কোনও বিকল্প ছিলো না।
আইসিসির এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের প্রতি অবিচার বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। একই সঙ্গে তিনি জানান, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পিসিবির পক্ষ থেকে ‘প্ল্যান এ, বি, সি ও ডি’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডন এ তথ্য জানিয়েছে।
লাহোরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নাকভি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে স্পষ্ট অবিচার করা হচ্ছে। আইসিসির নীতি দ্বিমুখী হতে পারে না। ভারত ও পাকিস্তানের জন্য যদি বিশেষ হাইব্রিড মডেল চালু করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য তা প্রযোজ্য হবে না কেনো—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাকভি আরও বলেন, কোনও দেশ অন্য দেশকে ডিক্টেট করতে পারে না।
বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পিসিবি চেয়ারম্যান জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, আগে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত আসুক, এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পিসিবির প্রস্তুত থাকা সব বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশ্বকাপ ঘিরে এ টানাপোড়েন কেবল ক্রিকেটীয় ইস্যু নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে শক্তির রাজনীতি ও কূটনৈতিক প্রভাবের নতুন মাত্রা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























