টাকার বদলে দেশের সম্মানকে বেছে নিলেন
বিশ্বকাপ বর্জন করে নজির গড়লেন শরফুদ্দৌলা
বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে, এ দেশের মাটি-জল-হাওয়ায় বড় হয়ে কেউ যখন কয়েক টাকার লোভে নিজের দেশের অপমানও গায়ে মাখে না, তখন সে ভিড়ের মাঝেই কিছু মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়ান। যারা মনে করিয়ে দেন—বাংলাদেশ এখনো বাঘের বাচ্চায় ভরা, যারা দেশের সম্মানকে টাকার দরে বিক্রি করে না।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের বিশ্বকাপ বর্জনের পর এবার একই অবস্থান নিলেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বিষয়টি ক্রিকেটাঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।
নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় শরফুদ্দৌলা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, একজন আম্পায়ার হিসেবে মাঠে তিনি সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু যখন নিজের দেশের দলের সঙ্গে প্রকাশ্য অবিচার করা হয় এবং পরিকল্পিতভাবে তাদের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেয়া হয়, তখন সে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া তার বিবেকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তার ভাষায়,
যখন আমাদের নিজস্ব দলকে বিশ্বকাপ থেকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, তখন একজন আম্পায়ার হিসেবে মাঠে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের জন্য, আমাদের দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই। আমরা আমাদের জাতির সম্মানের সঙ্গে আপস করি না।
বিশ্বকাপে আম্পায়ারিংয়ের সঙ্গে জড়িত বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিক নিয়েও সরাসরি কথা বলেছেন এ বাংলাদেশি আম্পায়ার। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে আম্পায়াররা প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন—এটা সত্য। কিন্তু কোটি কোটি ডলারের প্রস্তাব এলেও তিনি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে তা গ্রহণ করবেন না।
শরফুদ্দৌলার কণ্ঠে ছিল গভীর দায়বদ্ধতার সুর। তিনি বলেন,
এ দেশ আমাকে আমার পরিচয় দিয়েছে। এখন এ মাটির ঋণ শোধ করার সময় এসেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ অবস্থান নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। যখন অনেকেই ভারতের পায়ে মাথা রেখে নিজেদের ‘ধন্য’ ভাবতে আগ্রহী, ঠিক তখনই শরফুদ্দৌলার মতো মানুষরা প্রমাণ করছেন—বাংলাদেশের সম্মান এখনো বিক্রির পণ্য নয়।
জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার ঘটনায় দেশের ক্রিকেটাঙ্গন যখন ক্ষোভে ফুঁসছে, তখন একজন আম্পায়ারের এমন সিদ্ধান্ত কেবল প্রতিবাদ নয়, বরং আত্মমর্যাদার এক স্পষ্ট ঘোষণাও। প্রশ্ন একটাই—এ দেশে আর কতজন আছেন, যারা টাকার চেয়ে দেশের সম্মানকে বড় করে দেখার সাহস রাখেন?
সবার দেশ/কেএম




























