হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ড মামলার আপিল শুনানি ২০ জানুয়ারি
চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে করা আপিলের শুনানি আগামী ২০ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এ তারিখ নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ আপিলে মোট আটটি যুক্তি (গ্রাউন্ড) উপস্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ১৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়—একটি আমৃত্যু কারাদণ্ড, অন্যটি মৃত্যুদণ্ড। একই মামলায় রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মামলার প্রসিকিউশন দলের অন্যান্য সদস্য ছিলেন মিজানুল ইসলাম, গাজী এস.এইচ. তামিম, বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান। অভিযুক্তদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানিতে অংশ নেন। রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানও বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
মামলার সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। মোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুসারে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমন করতে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের ক্যাডার এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে।
সবার দেশ/এফও




























