Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:০৯, ৬ নভেম্বর ২০২৫

১৯ হাজার বিনিয়োগকারীর টাকা আত্মসাৎ

ডিসি অফিসের সাবেক উমেদার মান্নানের বিরুদ্ধে ২৪৫ কোটি টাকার মামলা

ডিসি অফিসের সাবেক উমেদার মান্নানের বিরুদ্ধে ২৪৫ কোটি টাকার মামলা
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাবেক উমেদার (এমএলএসএস) আব্দুল মান্নান তালুকদারের বিরুদ্ধে ২৪৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার সঙ্গে আরও চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে বাগেরহাট সদর থানায় এ মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ০৮, তারিখ ০৫ নভেম্বর ২০২৫। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী/১৫)-এর ৪(২)(৪) ধারায়।

অভিযুক্ত অন্যরা হলেন—

  • মো. আনিসুর রহমান (৬২), পিতা- মো. আলী আজগর, গ্রাম আলীয়া মাদ্রাসা রোড, বাগেরহাট।
  • সালেহা বেগম, স্বামী- মরুহুম হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার, গ্রাম দশানি, বাগেরহাট।
  • জেসমিন নাহার, স্বামী- আব্দুল মান্নান তালুকদার, গ্রাম দশানি, বাগেরহাট।

জানা গেছে, নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে আব্দুল মান্নান ও তার সহযোগীরা প্রায় ১৯ হাজার ৯৬৭ জন সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ২৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন।

প্রতারণার কৌশল

‘মানুষ মানুষের জন্য’— এ স্লোগান নিয়ে মান্নান অবসরের পর ‘নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ নামে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন। জয়েন্ট স্টক কোম্পানির অধীনে নিবন্ধিত এ প্রতিষ্ঠানের ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন তিনি ও তার পরিবার। বাকি ৫ শতাংশ মালিকানা ছিল মো. আনিসুর রহমানের।

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিলো— এটি একটি সুদমুক্ত, হালাল বিনিয়োগ ব্যবস্থা, যেখানে ৫০০০ টাকা থেকে শুরু করে যে কোনো পরিমাণ বিনিয়োগ করলে ৪-৫ বছরে অর্থ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি কোনো অনুমোদিত পুঁজিবাজার কার্যক্রম ছাড়াই আমানত সংগ্রহ করেছিলো।

টাকা স্থানান্তর ও মানিলন্ডারিং

সিআইডির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে— সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ৬৬ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মান্নান নিজের মালিকানাধীন সাবিল গ্রুপের ছয়টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেন। এসব প্রতিষ্ঠান হলো—

  • এ্যাজাক্স জুট মিলস লিমিটেড, খুলনা
  • সাবিল ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, বাগেরহাট
  • সাবিল জেনারেল হাসপাতাল, পিরোজপুর
  • সাবিল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, বাগেরহাট
  • সাবিল ল প্লাজা
  • সাবিল মৎস্য প্রকল্প, বাগেরহাট

বাকি অর্থ বিভিন্ন নামে-বেনামে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় বলে সিআইডি জানিয়েছে।

তদন্ত চলমান

প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

অভিযুক্তদের সম্পদের উৎস, বিদেশি ব্যাংক লেনদেন, এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থের গন্তব্য শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও সংশ্লিষ্ট সব সদস্যকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

‘যৌনাঙ্গে বুট দিয়ে মেরেছে’- দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ
বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ
৪৫তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ, নিয়োগ পেলেন ১,৭০২ জন
সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই আর নেই
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস
জুলাই জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১
দল হিসেবে আ.লীগের বিচারে তদন্ত চলছে: প্রসিকিউটর তামিম
কমিটি নিয়ে বিরোধ, জামায়াতের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ
রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংসাবশেষে আহত ১
পশু জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জকসুর বিক্ষোভ
ধূমপান করতে হাত কাঁপছিলো, লজ্জা লাগছিলো: বিদ্যা
এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার
অসুস্থতার কারণে ক্যাম্পাস ছেড়েছি,সুস্থ হয়েই ফিরবো: চুয়েট ভিসি
বাংলাদেশের তরুণরা আমাদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা