বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গ ভেঙে জয় প্রশান্ত কিশোরের
ভারতের নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত প্রশান্ত কিশোর এবার সরাসরি রাজনীতিতে নেমেই বড় সাফল্য পেয়েছেন। বিহারের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) টানা ৩০ বছরের আধিপত্য। একই সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠিত জন সুরাজ পার্টি (জেএসপি) প্রথমবারের মতো নির্বাচনী বিজয়ের স্বাদ পেলো।
সোমবার (৩ আগস্ট) ফলাফল ঘোষণার পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে থাকা এ আসনে জয় পেয়ে বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।
জয়ের পর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, বাঁকিপুরের জনগণ তাদের রায়ের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তার ভাষায়, মানুষ এখন এমন নেতৃত্ব চায়, যারা সুশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবে। অপরাধ কিংবা বিতর্কিত রাজনীতির পরিবর্তে জনগণ ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রশান্ত কিশোর প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে বাঁকিপুরে দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করবেন। তিনি বলেন, তার কার্যালয় শুধু বাঁকিপুরের মানুষের জন্য নয়, বরং বিহারের সব নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এদিকে প্রশান্ত কিশোরের এ জয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, গণতন্ত্রের এ উৎসবে বাঁকিপুরের জনগণ জন সুরাজকে বেছে নিয়েছে। জনগণের এ রায়কে সম্মান জানিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি পাটনা সাহিব লোকসভা আসনের অন্তর্ভুক্ত এবং গত ৩০ বছর ধরে এটি বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিলো। বিজেপির বিধায়ক নীতিন নবীন রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হলে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি ও পাটনার সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব এবং তরুণ বা ‘জেন-জি’ ভোটারদের সমর্থন প্রশান্ত কিশোরের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এ নির্বাচনে বিজেপিও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়ে। প্রথমে মনোনীত প্রার্থী অভিষেক কুমার সিনহা শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালে দলটি নীরজ কুমারকে প্রার্থী করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) সমর্থন দেয় রেখা কুমারীকে।
রাজধানী পাটনার প্রাণকেন্দ্রের এ গুরুত্বপূর্ণ আসনটি দখল করে জন সুরাজ পার্টি বিহারের রাজনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে। দলটির বিহার প্রধান মনোজ ভারতী এ বিজয়কে ‘নীরব ভোটারদের জয়’ এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সবার দেশ/কেএম




























