ডেঙ্গু-করোনা মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা
সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। রোববার (২০ জুলাই) এ সংক্রান্ত নির্দেশনাপত্র জারি করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।
এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, বিভাগীয় ও জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে।
ডেঙ্গু চিকিৎসা নিয়ে নির্দেশনা:
- প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বহির্বিভাগে ফ্লু/ফিভার কর্নার রাখতে হবে। সেখানে জ্বরের রোগীদের তীব্রতা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে এ, বি ও সি শ্রেণিতে ভাগ করে চিকিৎসা দিতে হবে।
- সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত কিট মজুত রাখতে হবে।
- বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি সরকার নির্ধারিত হারে আদায় করতে হবে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।
- রোগীর অবস্থা অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি কিংবা উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করতে হবে।
- প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড বেড ও ওয়ার্ড থাকতে হবে।
- ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল নিশ্চিত করতে হবে।
- প্রয়োজনীয় আইভি ফ্লুইডের ব্যবস্থা রাখতে হবে ও প্রয়োজনে বিধি অনুযায়ী তা কিনতে হবে।
- রোগীদের ফ্লুইড গ্রহণ ও বর্জনের তথ্য নিয়মিত রেকর্ড ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
- চিকিৎসা দিতে হবে জাতীয় গাইডলাইন অনুযায়ী। প্লাটিলেটের প্রয়োজন হলে নির্ধারিত ২১টি কেন্দ্রে থেকে সরবরাহ সংগ্রহ করা যাবে।
- রোগীদের ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট মশারির ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- প্রতিটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে কারণ অনুসন্ধান করে রিপোর্ট পাঠাতে হবে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায়।
- রোগীর মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে জিও লোকেশন ট্রেসিং করতে হবে।
- ডেঙ্গু পরীক্ষার তথ্য ‘ডেঙ্গু ট্র্যাকার অ্যাপ’-এ এন্ট্রি করতে হবে।
- স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে।
- হাসপাতালের ভেতরে ও চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এডিস মশার বংশ বিস্তার না ঘটে।
- হাসপাতালে দর্শনার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখতে হবে।
করোনা চিকিৎসা নিয়ে নির্দেশনা:
- চিকিৎসক ও কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে (মাস্ক, পিপিই, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা) জোর দিতে হবে।
- জ্বরের রোগীদের আলাদাভাবে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
- অক্সিজেন সরবরাহ পর্যাপ্ত রাখতে হবে।
- সংক্রমণের মাত্রা অনুযায়ী পর্যাপ্ত আইসোলেশন শয্যা নিশ্চিত করতে হবে।
- প্রয়োজন অনুযায়ী র্যাপিড অ্যান্টিজেন কিট সংগ্রহ করতে হবে।
- অ্যান্টিজেন পজিটিভ রোগীদের নমুনা আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় পাঠাতে হবে এবং তথ্য নির্ধারিত সার্ভারে এন্ট্রি করতে হবে।
- রেফারেল কেবলমাত্র যৌক্তিক কারণে এবং পর্যাপ্ত প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করে করতে হবে।
- চিকিৎসা দিতে হবে জাতীয় কোভিড-১৯ গাইডলাইনের (দশম সংস্করণ) ভিত্তিতে।
- রোগী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ডেঙ্গু ও করোনা দুই ক্ষেত্রেই চিকিৎসাসেবার গুণগত মান ও সমন্বয় বজায় রাখতে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
সবার দেশ/কেএম




























