সাবেক এমপি, মনোনয়নবঞ্চিত নেতা আর তরুণদের সমন্বয়
প্রার্থী বাছাইয়ে এনসিপির চমক!
এককভাবে না কি জোটে—দুই পথেই প্রস্তুত দলটি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গতি পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী কার্যক্রম। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে দলটি, চলছে দেশজুড়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিতভাবে নেয়া হচ্ছে সাক্ষাৎকার।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি থাকলেও, এনসিপি এককভাবে না কি সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেবে—তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে আগ্রহীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ১৫ নভেম্বর দলটি প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। এনসিপির সূত্র বলছে, প্রথম ধাপে ১০০ থেকে ১৫০টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
দলীয় নেতাদের পাশাপাশি অন্যান্য দলের মনোনয়নবঞ্চিত নেতা, সাবেক এমপি, জনপ্রিয় তরুণ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের এমন নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে, যাদের এলাকায় প্রভাব ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এনসিপির এক নেতা জানিয়েছেন, আমরা বিএনপি ও জামায়াতের তরুণ, প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ নিজেরাই যোগাযোগ করছেন।
মনোনয়ন ফরম বিক্রির বিষয়ে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, এখন পর্যন্ত ৬৫ থেকে ৭০টি ফরম বিক্রি হয়েছে। কেউ কেউ নির্ধারিত ১০ হাজার টাকার চেয়েও বেশি দিয়ে কিনছেন। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জন্যই মনোনয়ন ফরম উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন,
আমরা প্রার্থী বাছাইয়ে তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছি—জেতার সক্ষমতা, ভালো ইমেজ ও সাংগঠনিক দক্ষতা। প্রাথমিকভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি যাচাই করবে, এরপর আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নেতৃত্বে মনোনয়ন বোর্ড গঠন করে চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দলের মনোনয়নবঞ্চিত জনপ্রিয় নেতাদের জন্যও আমরা সুযোগ রাখছি। যাদের রাজনৈতিক ক্যালিবার ও গ্রহণযোগ্যতা আছে, তারা আমাদের ক্রাইটারিয়ার সঙ্গে একমত হলে আমরা বিবেচনা করবো।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন জানান, প্রথম ধাপে ১০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবো, পরে ধারাবাহিকভাবে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেয়া হবে। তবে ২০২৪ সালের সাজানো নির্বাচনে অংশ নেয়া কাউকে আমরা মনোনয়ন দেবো না। আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টি সংশ্লিষ্ট যে কারও প্রতি আমাদের জিরো টলারেন্স। তবে যাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ইমেজ পরিষ্কার, তাদের জন্য দ্বার খোলা।
রাজধানীর বাংলামটরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় দলটির আসন্ন নির্বাচনী কৌশল, সম্ভাব্য জোট ও রাজনৈতিক প্রচারণা নিয়ে আলোচনা হয়। অধিকাংশ নেতা এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা কিংবা গণতন্ত্র মঞ্চ, এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে তৃতীয় জোটে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
আগামী নির্বাচনে এনসিপি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। তবে যদি বিএনপি ও জামায়াত সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে আমরা জোট গঠনের ব্যাপারেও উন্মুক্ত।
অর্থাৎ, এককভাবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি থাকলেও, শেষ মুহূর্তে সমঝোতার পথও খোলা রাখছে এনসিপি।
সবার দেশ/কেএম




























