Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:০৪, ১০ নভেম্বর ২০২৫

উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ: মুখোমুখি কর্মসূচি দলগুলোর

আগামীকাল রাজধানীর পল্টন মোড়ে গণসমাবেশ করবে জামায়াত। নির্বাচন বিলম্বের চেষ্টা বলে মনে করছে বিএনপি, রাজপথে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত। ‘লকডাউ’ কর্মসূচি দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।

উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ: মুখোমুখি কর্মসূচি দলগুলোর
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন—এ তিন ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে। আলোচনার টেবিল ছেড়ে রাজপথে নেমে এসেছে বড় বড় দলগুলো, আর এতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতি।

আগামীকাল (১১ নভেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে গণসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও নভেম্বরের মধ্যেই গণভোটের দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছে দলটি। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতি চালুর দাবিও তুলেছে জামায়াত। ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনসহ আটটি দল এ কর্মসূচির পক্ষে রাজপথে থাকবে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে বিএনপি এ সমাবেশকে নির্বাচন বিলম্বের প্রচেষ্টা বলে মনে করছে। দলের নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা শিগগিরই রাজপথে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। সম্প্রতি ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এর শোভাযাত্রায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,

মানুষ নির্বাচনের অপেক্ষায়, অথচ কেউ কেউ তা বিলম্বিত করতে মাঠে নেমেছে। যারা নির্বাচন বিলম্বিত করতে চায়, তারা গণতন্ত্রের পক্ষের মানুষ হতে পারে না।

জামায়াত অবশ্য বিএনপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন,

আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে আছি। সোজা আঙুলে যদি ঘি না ওঠে, তবে আঙুল বাঁকা করবো—তবে ঘি আমাদের লাগবেই। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হতেই হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও ১১ নভেম্বরের সমাবেশ ঘিরে প্রস্তুতি সভা করেছে। দলটির মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন,

প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আশা করেছিলাম, কিন্তু হতাশ হয়েছি। তাই রাজপথেই দাবির প্রতিফলন ঘটবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দলগুলো নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। এতে নির্বাচনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, এ উত্তেজনা প্রশমিত না হলে তা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সবারই এখন একটাই প্রশ্ন—এ অবস্থায় নির্বাচন সম্ভব হবে কীভাবে?

এদিকে, আগামী ১৩ নভেম্বর শেখ হাসিনার নামে করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার দিনক্ষণ নির্ধারিত হবে। একই দিনে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলটির সোশ্যাল মিডিয়ার পেজ থেকে একাধিক হুমকিমূলক বার্তাও প্রচার হচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে।

রাজধানীতে নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে রায়ট গিয়ার, হেলমেট ও বডি আর্মারে সজ্জিত পুলিশ সদস্যদের মহড়া দিতে দেখা যায়। পথচারী ও সন্দেহভাজন যানবাহন তল্লাশি চালানো হয়।

ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, এটি রুটিন মহড়া, কোনও বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। এটি ফোর্স মোবিলাইজেশনের অংশ, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।

তবে সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ককটেল বিস্ফোরণ ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতের কলকাতায় অবস্থানরত দলটির নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকও ১৩ নভেম্বরের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকার রাজনীতি যেন এক বিস্ফোরণোন্মুখ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে জামায়াতের গণসমাবেশ, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’—এ মুখোমুখি কর্মসূচি সামনে রেখে দেশজুড়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ ও নিরাপত্তা শঙ্কা।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন