টাইম ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকারে যা বললেন তারেক রহমান
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, তার পরিকল্পনার মাত্র ৩০ শতাংশই বাস্তবায়ন করতে পারলেও দেশের মানুষের সমর্থন নিশ্চিত হবে। দেশে ফেরার পর এটি তার প্রথম সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের দেশে ফেরার উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নিজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুর্নীতির মামলা, শেখ হাসিনার শাসনামল এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পদক্ষেপসহ নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন।
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে তারেককে এমন একজন নেতা হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, যিনি রাজকীয় উত্তরসূরি হলেও দীর্ঘ নির্বাসনের পর নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। তিনি কেবল একটি দলের নেতা নন, বরং পরিবর্তনের রূপকার হিসেবেও নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। তার লক্ষ্য ‘নতুন বাংলাদেশ’, যেখানে বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে এবং সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশের মানুষ তাকে যে আস্থা দিয়েছে, সেটিই তার রাজনীতিতে থাকার প্রধান কারণ। তিনি আরও বলেন, শুধু পারিবারিক পরিচয়ের কারণে রাজনীতিতে নেই, বরং দলের সমর্থকরাই তাকে সামনে এনেছে।
টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে তারেক পরিষ্কারভাবে এগিয়ে থাকা প্রার্থী। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, তার নেতৃত্বাধীন বিএনপির প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থন মাত্র ১৯ শতাংশ। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, অতীতের দুর্নীতি অভিযোগ, বিশেষ করে বৈদ্যুতিক খাম্বা বিতর্ক এখনও তার উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তারেক রহমান সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, আগের মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিলো এবং অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো বাতিল করেছে। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে বিচার হবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দিয়ে দেশ চালানো যাবে না।
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, টাকার দুর্বল মান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং যুব বেকারত্বকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করছে, কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিমাণ ততোটাই কম।
দেশে ফেরার পর থেকে তারেক রহমান নানা পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন ১২ হাজার মাইল খাল খননের পরিকল্পনা, ভূমি অবক্ষয় রোধে বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানো, ঢাকায় ৫০টি উন্মুক্ত সবুজ স্থান গড়ে তোলা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি কলেজ পুনর্গঠন এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রণয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প। তিনি বলেন,
আমি যা যা পরিকল্পনা করেছি, তার মাত্র ৩০ শতাংশও যদি বাস্তবায়ন করতে পারি, দেশের মানুষ আমাকে সমর্থন দেবে।
সাক্ষাৎকারে লন্ডনে কাটানো সময়ের কথাও স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, রিচমন্ড পার্কে ঘুরে বেড়ানো, চিন্তায় ডুবে থাকা বা ইতিহাসের বই পড়াই তার প্রিয় সময় কাটানোর কাজ ছিলো। এছাড়া প্রিয় সিনেমা ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ও বেশ কয়েকবার দেখেছেন; তিনি জানিয়েছেন, সম্ভবত আটবার এ সিনেমাটি দেখেছেন।
সবার দেশ/কেএম




























