আটকে বহু যাত্রী
মেট্রোরেলের ছাদে ২ ব্যক্তি, চলাচল সাময়িক বন্ধ
রোববার রাত সোয়া ৮টার পর রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয় স্টেশনে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করেই দুই ব্যক্তি মেট্রোরেলের ছাদে উঠে পড়েন। মুহূর্তেই ঝুঁকি দেখা দেয় বিদ্যুৎচালিত এ আধুনিক ট্রানজিট ব্যবস্থায়, যার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় কয়েক হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ। নিরাপত্তা সতর্কতায় সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হয় পুরো মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের চলাচল।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এক ক্ষুদেবার্তায় জানায়, সচিবালয় স্টেশনে ট্রেনের ছাদে দুজন দেখা যাওয়ার পর ঘণ্টা আটটার কিছু পর থেকে বন্ধ রয়েছে চলাচল। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা সদস্য ও এমআরটি পুলিশের দল পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে।
ডিএমটিসিএলের বিবৃতিতে বলা হয়, যাত্রী নিরাপত্তা বিবেচনায় মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এমআরটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাওয়া রাত সাড়ে ৮টার তথ্য অনুযায়ী, ছাদে দেখা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন কমবয়সী। তাকে নিরাপদে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে সে কিভাবে ছাদে পৌঁছেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার জেরে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো লাইনে ট্রেনগুলো বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে যাত্রীরা পড়ে বিপাকে, স্টেশনে বাড়তে থাকে ভিড় ও উত্তেজনা।
মেট্রোরেলের পরিচালনাকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝুঁকি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠলেই ধাপে ধাপে পুনরায় ট্রেন চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিদ্যুতায়িত লাইনের কারণে ছাদে ওঠা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ—তির্যক খুঁটি বা লাইনের স্পর্শ ঘটলে মুহূর্তেই ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর দ্রুততম গণপরিবহন হিসেবে পরিচিত মেট্রোরেলের এমন বিরল ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরময় তৈরি হয়েছে আলোচনার ঝড়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সতর্কতা এবং যাত্রী ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেও শুরু করেছেন অনেকে।
তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশাবাদ—উদ্ধার কার্যক্রম সফল হলে খুব দ্রুতই স্বাভাবিক হবে চলাচল, আবার ছন্দে ফিরবে রাজধানীর মেট্রোরেল।
সবার দেশ/কেএম




























