Sobar Desh | সবার দেশ ভোলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮:৪০, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

দ্বীপ—মনপুরায় ভোরের ভূমিকম্প আতঙ্ক

ফজরের সময় কেঁপে উঠলো ভোলা

ফজরের সময় কেঁপে উঠলো ভোলা

ভোলার মনপুরা উপজেলায় ভোরের নীরবতা ভেঙে ভূমিকম্পের কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। হঠাৎ কেঁপে ওঠে দ্বীপের বাসাবাড়ি, মসজিদ, বিভিন্ন দালান-কোঠা ও হাসপাতালের ভবন। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে।

মনপুরা উপজেলার ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি এবং দারুস সুন্নাহ ফজলুল উলুম কওমী মাদ্রাসার মোহতামীম এনায়েত উল্লাহ নুরনবী জানান, ফজরের নামাজ চলাকালীন হঠাৎ পুরো মসজিদ কেঁপে ওঠে। মুসল্লিরা প্রথমে বুঝে উঠতে না পারলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে এটি ভূমিকম্প।

স্থানীয় সাংবাদিক সজিব মোল্লা ও মো. রাকিব জানান, ভোরের সে সময়ে বাসা-বাড়ি দুলে ওঠে। অনেকেই ঘুম থেকে উঠে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন।

উপজেলার মাদ্রাসার রোড এলাকার বাসিন্দা আয়শা ছিদ্দিকা বিথী, হুমায়ার আবদুল্লাহ, আকলিমা, মোস্তাফিজ, সাউদা, নুসাইবা ও আরওয়া জানান, ভূকম্পনের সময় ঘরের আসবাবপত্র নড়েচড়ে ওঠে। কিছু এলাকায় পুকুরের পানিও টলমল করতে দেখা যায়, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তোলে।

হাজিরহাট মার্কাজ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মো. ইউসুফ জানান, ফজরের নামাজের সময় পুরো মসজিদ কাঁপতে থাকে। মুসল্লিদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হলেও সবাই নিরাপদ ছিলেন।

স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ভারতের মনিপুর ও আসামসহ আশপাশের অঞ্চলে সংঘটিত ভূমিকম্পের প্রভাবেই ভোলার মনপুরা উপকূলে এ কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতের মনিপুরে সংঘটিত ভূমিকম্পের প্রভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে ভোলার মনপুরায় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিলো। সে সময় রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৩ দশমিক ৫।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ