হাতীবান্ধায় বিএনপি–জামায়াত সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১০
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের টংভাঙ্গা গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম রকিব হায়দার এবং পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবির টহলও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের পক্ষে কয়েকজন নারী কর্মী বিকেলে টংভাঙ্গা গ্রামে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন। এ সময় তারা বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজিব প্রধানের এক কর্মীর বাড়িতে গেলে বাধার মুখে পড়েন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা বাগ্বিতণ্ডায় রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনার একটি এক মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা প্রথমে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মারামারি শুরু হয় এবং পরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় অংশ নেয়।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় টংভাঙ্গায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ বেধে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজিব প্রধান বলেন, টংভাঙ্গায় সংঘর্ষের খবর তিনি শুনেছেন। তবে তিনি তখন পাটগ্রামে একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে থাকায় ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেননি।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
সবার দেশ/কেএম




























