অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে লজ্জা পাইনি: সায়নী
চলচ্চিত্র বা ওয়েব সিরিজে অন্তরঙ্গ দৃশ্য এলেই দর্শকের কৌতূহল বেড়ে যায়। পর্দার আড়ালে এসব দৃশ্য কীভাবে শুট হয়, অভিনয়ের সময় শিল্পীরা ঠিক কী অনুভব করেন—এ প্রশ্ন বহুদিনের। সম্প্রতি সে জল্পনার অনেকটাই ভাঙলেন অভিনেত্রী সায়নী গুপ্ত। নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানালেন, পেশাদার পরিবেশ থাকলে এমন দৃশ্য মোটেও বিব্রতকর হয় না।

ফিল্মিজ্ঞান সাময়িকীতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সায়নী খোলাখুলিভাবে একটি নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তিনি জানান, ওই দৃশ্যটি শুট করা হয়েছিলো সম্পূর্ণ বন্ধ সেটে, যেখানে গোপনীয়তা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছিলো। সেটে অপ্রয়োজনীয় কাউকে রাখা হয়নি, উপস্থিত ছিলেন কেবল প্রয়োজনীয় টিমের সদস্যরা।

সায়নীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেটে তার সঙ্গে ছিলেন সিনেমাটোগ্রাফার এবং একজন ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি। দুজনই পুরুষ হলেও পুরো পরিবেশ ছিলো অত্যন্ত পেশাদার ও সম্মানজনক। তিনি বলেন, বাইরে থেকে অনেকের কাছে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করে সেটের পরিবেশ ও টিমের আচরণের ওপর।

অভিনেত্রীর কথায়, একটি ফিল্ম সেট শেষ পর্যন্ত একটি কর্মক্ষেত্রই। সেখানে সবাই নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে। তিনি বলেন, দুজন পুরুষের সামনে দৃশ্যটি করতে হলেও এক মুহূর্তের জন্যও লজ্জা বা অস্বস্তি বোধ করেননি। তার পুরো মনোযোগ ছিলো চরিত্র ও দৃশ্যটি সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার দিকে। ব্যক্তিগত সীমা লঙ্ঘনের কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাসকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সায়নী। তিনি জানান, পরিচালক ও টিমের ওপর পূর্ণ আস্থা থাকলেই তিনি এমন সংবেদনশীল দৃশ্যে অভিনয়ে সম্মতি দেন। তার মতে, বিশ্বাস থাকলে ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই কঠিন দৃশ্যগুলো করা সম্ভব হয়।


সায়নীর এ বক্তব্য অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে প্রচলিত অনেক ভুল ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, এ ধরনের দৃশ্য সাধারণত অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত, সংযত ও নিরাপদ পরিবেশেই শুট করা হয়। যেখানে পেশাদারিত্ব, সম্মান ও পারস্পরিক আস্থাই শিল্পীদের মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করে।
সবার দেশ/কেএম




























