Sobar Desh | সবার দেশ সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:০৪, ২১ অক্টোবর ২০২৫

আপডেট: ১১:০৬, ২১ অক্টোবর ২০২৫

সিরাজগঞ্জে নৃশংস ধর্ষণের ভয়াবহ ঘটনা

‘কিশোরীর চিৎকার ঢাকতে উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্সে গান’

‘কিশোরীর চিৎকার ঢাকতে উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্সে গান’
ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে এক ১৪ বছরের কিশোরীর জীবন হয়েছে ধ্বংসের মুখে। মাদ্রাসায় পড়তে যাওয়ার পথে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে রেস্তোরাঁয় নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেছে ছয় যুবক। কিশোরীর চিৎকারের আওয়াজ বাইরে না পৌঁছায় বলে অভিযুক্তরা সাউন্ডবক্সে উচ্চশব্দে গান চালিয়ে দিয়েছিলো। 

এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণায় জর্জরিত, এবং পুলিশ গ্রেফতারের জন্য তৎপর।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালে, যখন স্থানীয় জামতৈল ইউনিয়নের বাসিন্দা কিশোরী প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসে যাচ্ছিলো। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি দোকানে কলম কিনতে বের হওয়ার পর তার উধাও হয়ে যায়। 

অভিযুক্ত প্রধান নাইম হোসেন, উপজেলার চর কামারখন্দ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে, তাকে জোর করে একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে কামারখন্দ সেন্ট্রাল পার্কের সংলগ্ন ‘ডেরা ফাস্ট ফুড অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট’-এ নিয়ে যায়। সেখানে তার পাঁচ বন্ধু—জামতৈল এলাকার মো. ইমরান (২১), আকাশ (২১), মো. আতিক (২৩), নাছিম উদ্দিন (২০) এবং নাজমুল হক নয়ন (২০)—সঙ্গে যোগ দিয়ে কিশোরীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে।

মামলার এজাহার অনুসারে, রেস্তুরেন্টের ভিতরে চলছে অমানুষিক অত্যাচার। কিশোরীর চিৎকার-কান্নার আওয়াজ বাইরে না ছড়িয়ে পড়ার জন্য অভিযুক্তরা সাউন্ডবক্সে জোরে জোরে গান চালিয়ে দেয়। একদিকে ভিতরে নাইম ও তার সঙ্গীরা অপরাধ সাধন করছে, অন্যদিকে ইমরান, আকাশ, আতিক, নাছিম উদ্দিন এবং নাজমুল হক নয়ন বাইরে পাহারা দিয়ে কোনো বাধা আসতে না দেয়। এভাবে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে নির্মম ধর্ষণ, যার ফলে কিশোরীর বিশেষ অঙ্গ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদ্রাসা ছুটির পরও কন্যা বাড়ি না ফিরায় পরিবার চিন্তায় পড়ে। খোঁজাখুঁজির মধ্যে হঠাৎ এক অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে: ‘আপনার মেয়ে অসুস্থ অবস্থায় সিরাজগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকে আছে।’ দৌড়ে সেখানে পৌঁছে পরিবার দেখে, মেয়ের অবস্থা ভয়াবহ। তাকে তাৎক্ষণিক শহীদ এম মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে ডাক্তাররা তার বিশেষ অঙ্গে অস্ত্রোপচার করে জরুরি চিকিৎসা দেন।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক পার্থ সাহা বিস্তারিত জানান, 

কিশোরীর বিশেষ অঙ্গ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ছিলো। প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট যে, জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের কারণেই এমন হয়েছে। তাকে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে এবং অবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে।

ভুক্তভোগীর মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার মেয়েকে ওই বখাটেরা জোর করে তুলে নিয়ে এমন করেছে। এখন তার শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণা দেখে আমরা সহ্য করতে পারছি না।

সোমবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে কামারখন্দ থানায় নাইম হোসেনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয় সাংবাদিকরা সরেজমিনে রেস্তুরেন্টে তথ্য সংগ্রহে যান। সেখানে কয়েকজন যুবক আড্ডা দিচ্ছিলো, যারা সাংবাদিকদের দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠে হুমকি দেয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক সেখানে পৌঁছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করে এবং আলামত সংগ্রহের জন্য রেস্টুরেন্টটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

কামারখন্দ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুল আক্তার বলেন, আলামত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রেস্টুরেন্টটি বিকেল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য দল গঠন করে দেয়া হয়েছে। থানার ওসি আব্দুল লতিফ সোমবার রাত সাড়ে আটটায় জানান, কিশোরীর মায়ের মামলায় ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি চারজনের গ্রেফতার অবশ্যই হবে। আমরা পুরো ঘটনার তদন্ত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবো।

এ ঘটনা সিরাজগঞ্জের সমাজে হইচই ফেলেছে। কিশোরী মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, এমন অপরাধীদের কঠোর শাস্তি না দিলে আরও ঘটনা ঘটবে। পুলিশের তদন্ত চলছে, এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন