তুরাগে শেষ পরিণতি
বাসে আগুন দিয়ে পালানোর সময় নদীতে ঝাঁপে দুর্বৃত্তের মৃত্যু
রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে নাটকীয় পরিণতি—আগুন দেয়ার পর স্থানীয়দের ধাওয়ায় তুরাগ নদে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক দুর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তামান্না পার্কের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
শাহ আলী থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম আযম জানান, পার্কিং করা কিরণমালা পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে পালানোর সময় দুইজন দুর্বৃত্তকে স্থানীয়রা ধাওয়া করে। এদের মধ্যে একজন নদীতে ঝাঁপ দিলে পানিতে ডুবে মারা যান। অপরজন, রুদ্র মুহাম্মদ (২০), স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
এ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, বাসে আগুন দেয়ার পর জনগণের ধাওয়ায় এক ব্যক্তি নদীতে পড়ে যান। তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে অপর অভিযুক্তকে স্থানীয়রা ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুজন যুবক পার্কিং করা ঢাকা মেট্রো ব-১৩-১২৬২ নম্বর কিরণমালা পরিবহনের বাসে হঠাৎ পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই ধোঁয়া উঠতে শুরু করলে আশপাশের মানুষ চিৎকার করে তাদের ধায়া দেয়। একজন দ্রুত পালাতে গিয়ে তুরাগ নদে ঝাঁপ দেয়, আরেকজনকে ঘটনাস্থলেই ধরে ফেলা হয়। নদীতে ঝাঁপ দেয়া ব্যক্তিকে পরে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বাসের আসন, পর্দা ও জানালার কাচ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক নাশকতার অংশ হিসেবেই এ অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, আটক রুদ্র মুহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার পেছনে কোনো সংগঠিত পরিকল্পনা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























