শাপলা ইস্যুতে ইসিতে এনসিপির ৫ দাবিসহ ২ যুক্তি
জাতীয় ফুল ‘শাপলা’কে দলীয় প্রতীক হিসেবে বরাদ্দের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে পাঁচ দফা দাবি ও দুইটি যুক্তি উপস্থাপন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির অভিযোগ, কমিশন বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারীভাবে এনসিপির প্রার্থিত প্রতীক বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো প্রতীক চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপি এসব দাবি ও যুক্তি তুলে ধরে জানায়, ইসির সাম্প্রতিক আচরণ শুধু দলটির সঙ্গে নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেও অসঙ্গতিপূর্ণ।
এনসিপির পাঁচ দফা দাবি
এনসিপি জানিয়েছে, কমিশনের হুমকিমূলক আচরণ বন্ধ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতীক বরাদ্দ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হবে। দলটির দাবি অনুযায়ী—
- নির্বাচন কমিশন লিখিতভাবে জানাবে, প্রতীক অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেয়ার নীতিমালা কী, এবং কোন আইনি ভিত্তিতে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ বা ‘লাল শাপলা’ তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
- যদি এমন কোনও নীতিমালা এখনো প্রণীত না হয়ে থাকে, তবে অবিলম্বে তা প্রণয়ন করে সব দলের জন্য সমভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
- ২০০৮ সালের বিধিমালার ফরম-২ অনুসারে এনসিপির প্রার্থিত প্রতীকের নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।
- প্রতীক বরাদ্দে কমিশনকে যুক্তিসংগত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তার সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করতে হবে।
- গত ৩ আগস্ট, ২৪ সেপ্টেম্বর ও ৭ অক্টোবর এনসিপির জমা দেয়া তিনটি আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে কমিশনের আইনি ভিত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের আইনি দায়িত্বে এনসিপির দুই যুক্তি
দলটি দুটি প্রধান যুক্তি তুলে ধরে বলেছে—
- প্রথমত, প্রতীক অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেয়ার মানদণ্ড প্রকাশ করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ অনুসারে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমতা ও ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা কমিশনের কর্তব্য। কমিশন যদি কোনও নীতিমালা অনুযায়ী প্রতীক বাদ দিয়ে থাকে, তবে তা প্রকাশ করতে হবে এবং সব দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করতে হবে।
- দ্বিতীয়ত, ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮’-এর বিধি ৭(২) ও ফরম-২ অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কমিশনকে দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় দলের প্রার্থিত প্রতীকের নাম উল্লেখ করতেই হবে। নিজের ইচ্ছায় ভিন্ন প্রতীক চাপিয়ে দেয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই।
কমিশনের আচরণকে স্বেচ্ছাচারী বলছে এনসিপি
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন যদি ২০০৮ সালের বিধি অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তাহলে অবশ্যই এনসিপির প্রার্থিত প্রতীক — শাপলা, সাদা শাপলা অথবা লাল শাপলা — এর যেকোনও একটি নাম উল্লেখ করতে হবে।
দলটি অভিযোগ করে, ইসির ১৩ অক্টোবরের চিঠিতে হুমকি দেয়া হয়েছে যে এনসিপিকে কমিশনের ইচ্ছামতো প্রতীক নিতে হবে, নইলে তাদের আবেদন বাতিল হবে। এটি একটি বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ, যা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী, দাবি এনসিপির।
দলটি আরও বলেছে, শাপলা প্রতীককে ঘিরে জনগণের সঙ্গে এনসিপির যে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা উপেক্ষা করার কোনও ক্ষমতা কমিশনের নেই।
কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
বিবৃতিতে এনসিপি মন্তব্য করে, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান আচরণ তার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। দলটির মতে,
কমিশন যেন ফ্যাসিবাদী আমলের পাতানো নির্বাচন আয়োজনকারী কমিশনের মতো আচরণ করছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনি সংকেত।
দলটি আশা প্রকাশ করেছে, নির্বাচন কমিশন দ্রুত তার অবস্থান স্পষ্ট করবে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির অনুকূলে শাপলা, সাদা শাপলা অথবা লাল শাপলা—এ তিনটির যেকোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করবে।
সবার দেশ/কেএম




























